উত্তরার সড়ক দখলমুক্ত হবে কবে? বন্ধ হবে চাঁদাবাজি?

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এলাকার অন্যতম উত্তরা। পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে ওঠা এই অঞ্চলের বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাত এখন দখল, অবৈধ স্থাপনা ও নানা ধরনের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে যানজট, পথচারীদের দুর্ভোগ ও জনভোগান্তি।

উত্তরার বিভিন্ন সড়কের পাশে ফুটপাত দখল করে বসানো হয়েছে অস্থায়ী দোকান ও নানা ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। কোথাও কোথাও সড়কের একটি অংশ দখল করে রাখা হচ্ছে মালামাল। ফলে যানবাহন চলাচলের জায়গা কমে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। ফুটপাত দখল থাকায় বাধ্য হয়ে পথচারীদেরও মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ দখল ও স্থাপনা গড়ে উঠলেও কার্যকর ও স্থায়ী উচ্ছেদ অভিযান দেখা যায় না। মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হলেও কিছুদিন পর আবারও আগের অবস্থায় ফিরে যায় বিভিন্ন এলাকা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—উত্তরার সড়ক ও ফুটপাত স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত হবে কবে?

শুধু দখল নয়, উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে। ফুটপাতের দোকান, ভাসমান ব্যবসা, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতকে কেন্দ্র করে নিয়মিত টাকা আদায়ের অভিযোগ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ব্যবসায়ীদের অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা না দিলে দোকান বসানো বা ব্যবসা পরিচালনায় নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়। কেউ কেউ আবার উচ্ছেদ কিংবা হয়রানির ভয়েও মুখ খুলতে চান না।

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বছরের পর বছর ব্যবসা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন স্থায়ী সমাধান করতে পারছে না? দখলদারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও পরবর্তী সময়ে নজরদারি না থাকায় কি আবারও দখলের সুযোগ তৈরি হচ্ছে?

উত্তরাবাসীর দাবি, শুধু লোক দেখানো উচ্ছেদ অভিযান নয়, সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করে তা স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজির অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

নগরবাসীর প্রত্যাশা—উত্তরার সড়ক হবে চলাচলের জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন, ফুটপাত থাকবে পথচারীদের দখলে এবং বন্ধ হবে সব ধরনের অবৈধ চাঁদাবাজি। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কবে কার্যকর পদক্ষেপ নেয় এবং উত্তরার সড়ক ও ফুটপাত স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত করতে পারে।