কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে হর্টিকালচার প্রকল্প, দুই বছর ধরে তালাবদ্ধ

কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের ফলজ, বনজ, ঔষধি ও সবজির চারা, কলম ও বীজ সুলভ মূল্যে সরবরাহ এবং উদ্যান পালন বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় প্রায় ১০ একর জমির ওপর কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে হর্টিকালচার সেন্টার।

সরকারের অর্থে নির্মিত অবকাঠামোর কাজ শেষ হলেও জনবল ও প্রশাসনিক জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে এর কার্যক্রম। পড়ে আছে তালাবদ্ধ অবস্থায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে সারা দেশে ৭৩টি হর্টিকালচার সেন্টার নির্মাণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নাজিরপুরে প্রায় ১০ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয় এ হর্টিকালচার সেন্টারটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে সেন্টারটির অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ হয়। পরে প্রকল্পের পক্ষ থেকে এটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মাণে মোট কত টাকা ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। প্রকল্পের আয়-ব্যয়েরও কোনো হিসাব নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

কৃষকদের প্রত্যাশা ছিল, এই সেন্টারের মাধ্যমে তারা উন্নত জাতের ফলজ, বনজ, ঔষধি ও সবজির চারা, কলম ও বীজ সহজে পাবেন। পাশাপাশি আধুনিক কৃষি বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তাও মিলবে।

কিন্তু নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় কোনো সুফলই পাচ্ছেন না স্থানীয় কৃষকরা। বর্তমানে হর্টিকালচার সেন্টারটির জায়গা ও অবকাঠামো অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও এর জায়গা ধান শুকানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সেন্টারটি বন্ধ থাকায় সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনাটি এখন তাদের কোনো কাজে আসছে না।

স্থানীয় কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, হর্টিকালচার সেন্টার করার জন্য আমাদের কাছ থেকে জায়গা নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ তখন বলেছিল, এখানে স্থানীয়দের চাকরির সুযোগ হবে। কিন্তু দুই বছরের বেশি সময় হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। একজন ছেলে এখানে দেখাশোনা করেন, তার বেতনও ঠিকমতো দেওয়া হয় না।

আরেক কৃষক রুহুল আমিন বলেন, ভবন নির্মাণ করে ফেলে রাখায় সরকারের অর্থের অপচয় হচ্ছে। এখানে কোনো কার্যক্রম না থাকায় প্রান্তিক কৃষকরাও কোনো সুফল পাচ্ছেন না। সরকারের যে উদ্দেশ্যে এটি নির্মাণ করা হয়েছে, সেটিও বাস্তবায়িত হচ্ছে না। বর্তমানে জায়গাটি অনেকটা ভুতুড়ে অবস্থায় পড়ে আছে।

স্থানীয় নারী কৃষক রহিমা বেগম বলেন, প্রতিষ্ঠানটি হওয়ার আগে আমরা এখানে কৃষিকাজ করতাম। ভেবেছিলাম হর্টিকালচার সেন্টার হলে এখানেও কাজ করার সুযোগ পাব। কিন্তু এখানে তেমন কোনো কাজই হচ্ছে না।

পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, উন্নত মানের চারা ও কলম উৎপাদন করে কৃষকদের মধ্যে বিতরণের জন্যই হর্টিকালচার সেন্টারটি নির্মাণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। তবে জনবল না থাকায় বর্তমানে কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটি রাজস্ব খাতে নেওয়া হলে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। তখন এর মাধ্যমে এ অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে উন্নত মানের বীজ, চারা ও কলম বিতরণ করা যাবে।