কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম এয়ারলাইনের শত শত ফ্লাইট বাতিল, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম এয়ারলাইন ওয়েস্টজেটের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে রোববার (২ আগস্ট) থেকে ধর্মঘট শুরু করেছেন। ছুটির এই দীর্ঘ সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে শত শত ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।

প্রায় ৪ হাজার ৪০০ ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ‘কানাডিয়ান ইউনিয়ন অব পাবলিক এমপ্লয়িজ’ (সিইউপিই) এবং এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনা শনিবার গভীর রাতে ভেস্তে যায়। কর্মীরা মূলত বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বিমান উড্ডয়নের আগে এবং অবতরণের পরে মাটিতে তারা যে কাজ করেন, তার জন্য পারিশ্রমিক (বোর্ডিং পে এবং গ্রাউন্ড পে) দাবি করছেন।

ওয়েস্টজেট জানিয়েছে, রোববার সকাল পর্যন্ত তারা ৩০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। তবে যাত্রীদের টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে অথবা অন্য এয়ারলাইন্সসহ পরবর্তী সম্ভাব্য ফ্লাইটে তাদের গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। এই ধর্মঘটের কারণে বিশ্বজুড়ে ১০০টিরও বেশি গন্তব্যে চলাচলকারী বোয়িং ৭৩৭ এবং ৭৮৭ মডেলের উড়োজাহাজগুলোর উড্ডয়ন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে এয়ারলাইনটি।

ওয়েস্টজেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যালেক্সিস ফন হোয়েনসব্রোচ এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা এমন একটি প্রস্তাব দিয়েছিলাম যা কানাডায় কেবিন ক্রুদের জন্য একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করত। ওয়েস্টজেট হতো একমাত্র এয়ারলাইন, যারা ফ্লাইটের আগে ও পরের সব সময়ের জন্য ঘণ্টাপ্রতি পারিশ্রমিক এবং প্রথম বছরেই দুই অঙ্কের (ডাবল ডিজিট) হারে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তারা এটি গ্রহণ করেনি।

সিইউপিই-এর (শাখা ৮১২৫) প্রেসিডেন্ট আলিয়া হুসাইন বলেন, এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষের দেওয়া প্রস্তাব তাদের জন্য যথেষ্ট ছিল না। এই শ্রম বিরোধে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকতে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমরা ধর্মঘট করছি কারণ আমরা বিশ্বাস করি যে আমরা আরও ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য। প্রায় ১১ মাস ধরে আলোচনার পরও তারা যদি আমাদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করত, তাহলে আজ আমাদের এখানে দাঁড়াতে হতো না।

কানাডার কর্মসংস্থান ও পরিবার বিষয়ক মন্ত্রী প্যাটি হাজদু এক বিবৃতিতে এই ধর্মঘটকে ‘হতাশাজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে সরকার এতে হস্তক্ষেপ করবে কিনা, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাননি। তিনি বলেন, আমাদের শীর্ষ মধ্যস্থতাকারীরা সিইউপিই এবং ওয়েস্টজেটের সঙ্গে দিনরাত কাজ করছেন এবং যত দ্রুত সম্ভব একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সাহায্য করার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছেন।

উল্লেখ্য, ওয়েস্টজেটের কেবিন ক্রুরা গত বৃহস্পতিবার ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘটের নোটিশ দিয়েছিল। জবাবে এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষও একটি ‘লকআউট’ নোটিশ জারি করেছিল।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেল্টা এয়ার লাইনস এবং আমেরিকান এয়ারলাইন্সসহ বেশ কয়েকটি মার্কিন বিমান সংস্থা তাদের কর্মী ইউনিয়নের দাবির মুখে বোর্ডিংয়ের সময়ের কাজের জন্য ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের পারিশ্রমিক দেওয়া শুরু করেছে।

গত গ্রীষ্মে কানাডার জাতীয় বিমান সংস্থা ‘এয়ার কানাডা’র প্রায় ১০,০০০ ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ঠিক একই দাবিতে ধর্মঘটে গিয়েছিলেন। সেসময় কেন্দ্রীয় সরকার এয়ারলাইন এবং ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের ওপর বাধ্যতামূলক সালিশি আরোপ করেছিল, যার ফলে কর্মীরা কিছুটা গ্রাউন্ড পে বা অতিরিক্ত পারিশ্রমিক আদায়ে সক্ষম হন।

সূত্র: দি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল