থার্ড টার্মিনালের উদ্বোধন ডিসেম্বরে, ব্যয় নিয়ে ‘গুজবে’ কান না দেওয়ার অনুরোধ বেবিচকের

হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নিয়ে অপতথ্য ও গুজবে কান না দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

সংস্থাটি বলেছে, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই থার্ড টার্মিনালের অপারেশন শুরু করতে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং সে লক্ষ্যেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ চলছে।

রোববার (২৬ জুলাই) বেবিচকের মুখপাত্র ও সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) কাওছার মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক লিখিত বক্তব্যে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের ব্যয়, ভেরিয়েশন কার্যক্রম, চুক্তি বাস্তবায়ন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনের কয়েকটিতে প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা, অনুমোদিত নথি, চুক্তিগত বিধান ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আংশিক এবং প্রেক্ষাপটবিহীন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

বেবিচক দাবি করেছে, থার্ড টার্মিনালের নির্মাণকাজ প্রায় দুই বছর আগেই শেষ হলেও অপারেশনাল প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিভিন্ন কারিগরি ও পরিচালনাগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কারণে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে অতিরিক্ত সময় লেগেছে।

বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় এসব প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে সংস্থাটি জানায়, আগামী ডিসেম্বরে থার্ড টার্মিনালের অপারেশন শুরু করার লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে। এ সময়ে প্রকল্প সম্পর্কে অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করার পাশাপাশি দেশের অন্যতম বৃহৎ জাতীয় অবকাঠামো প্রকল্পের ভাবমূর্তি, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টার্মিনাল পরিচালনার প্রস্তুতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আহরণ ও এভিয়েশন খাতের উন্নয়ন কার্যক্রমও নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিবৃতিতে থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে অনুমোদন ছাড়াই ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ের অভিযোগও নাকচ করা হয়েছে। বেবিচক বলেছে, এ দাবি প্রকল্পের অনুমোদিত নথি ও বাস্তব তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, যে কোনও প্রকল্পে ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটি (পিআইসি), প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটি (পিএসসি) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে পরিকল্পনা কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সরকারি এ অনুমোদন ছাড়া প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের সুযোগ নেই।

বেবিচকের তথ্যমতে, প্রকল্পের প্রথম ডিপিপির ব্যয় ছিল ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা, যা ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর সরকার অনুমোদন করে। পরে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। সর্বনিম্ন বৈধ দরদাতার প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির যাচাইয়ের পর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন দেয়। এর ভিত্তিতে ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকার প্রথম সংশোধিত ডিপিপি ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর সরকার অনুমোদন করে।

পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ভেরিয়েশন কাজের জন্য ৩ হাজার ২৬৭ কোটি টাকা যুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে কার্যস্থলের বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন কাজের পরিমাণ সমন্বয় করে ৩৪ কোটি টাকা কমিয়ে মোট ২১ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় সংশোধিত ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়। প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটি, প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটি ও মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর পরিকল্পনা কমিশন এটি অনুমোদন করে।

বেবিচক জানায়, এ পর্যন্ত প্রকল্পে ২০ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যা অনুমোদিত প্রকল্প ব্যয়ের সীমার মধ্যেই রয়েছে। তাই অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ সঠিক নয়।

বিবৃতিতে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সবার সচেতন ও দায়িত্বশীল সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।