প্রবাসীদের অবদান স্মরণে এনসিপির আলোচনা সভা

মালয়েশিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান স্মরণ এবং জুলাই ঘোষণাপত্র দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে আলোচনা সভা ও স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স মালয়েশিয়ার উদ্যোগে ‘Remembering Our Heroes’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠান শনিবার (২ আগস্ট) সুবাং জায়ার স্টার কাবাব ইভেন্ট হলে অনুষ্ঠিত হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা, শহীদদের আত্মত্যাগ, জাতীয় সংস্কার এবং বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, সাংবাদিক, পেশাজীবী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মিলনমেলায় পরিণত হয়।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন ইঞ্জিনিয়ার রনি মিনহাজ। এরপর দেশাত্মবোধক দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। বিলকিস বিথী ও শেখ আব্দুল মতিন জুলাইয়ের চেতনা ও দেশপ্রেমভিত্তিক কবিতা আবৃত্তি করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল বাশার। প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও জাতীয় নারী শক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক হাফসা জাহান।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স মালয়েশিয়ার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ এনামুল হক।

এনসিপির মালয়েশিয়া শাখার সদস্যসচিব আলম মো. রওশন জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এ সময় কুয়ালালামপুর, সেলাঙ্গর ও পেনাং আঞ্চলিক কমিটির নেতারাও বক্তব্য দেন।

বিশেষ অতিথি হাফসা জাহান রাজনীতিতে নারীদের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিংয়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি একটি মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।

প্রধান অতিথি আব্দুল হান্নান মাসউদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, আন্দোলনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আত্মত্যাগ, রেমিট্যান্স স্থগিত কর্মসূচিতে তাদের সাহসী ভূমিকা এবং সার্বিক অবদান দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করার আশ্বাস দিয়ে বলেন, জনগণের স্বার্থে সরকারকে সবসময় জবাবদিহির আওতায় থাকতে হবে এবং এনসিপি গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে।

সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে জুলাই ঘোষণাপত্র দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।

তিনি জাতীয় ঐক্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স মালয়েশিয়ার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের যে প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে, সরকারকে তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি এড়িয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা—গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মানবিক মর্যাদা ও জনগণের রাজনৈতিক অধিকার—বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য এবং ধারাবাহিক সংস্কার অপরিহার্য। একই সঙ্গে প্রবাসীদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং তাদের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স মালয়েশিয়া উপস্থিত অতিথি, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, স্বেচ্ছাসেবক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়। সংগঠনটি ভবিষ্যতেও জাতীয় স্বার্থ, প্রবাসীদের কল্যাণ এবং একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়।