মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পদত্যাগ করায় বিএনপির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মহাসচিব পদটি শূন্য হয়ে গেছে। রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ান। এতে এই পদ কাকে দিয়ে পূরণ করা হবে তা নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে আলোচনা এখন তুঙ্গে।
মহাসচিব পদে আসতে বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতাই আগ্রহী। তারা ভেতরে ভেতরে লবিংও করছেন। তবে মহাসচিব বেছে নেওয়ার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেই নিতে হবে।
অতীতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থেকে যেভাবে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছিলেন, সেই আদলে বর্তমানে রুহুল কবির রিজভীকে অনেকেই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসাবে বিবেচনা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে কারও নাম চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে রিজভীকে শনিবার (১৫ আগস্ট) স্থায়ী কমিটির সদস্য পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
এদিন চার নেতাকে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়। তারা হলেন—রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও ইসমাইল জবিউল্লাহ।
এখন মহাসচিব পদটিতে তারেক রহমান কাকে বেছে নেন সেটি দেখার অপেক্ষায় দলের নেতাকর্মীরা। এই পদের দৌড়ে সিনিয়র নেতাদের একটি অংশ সক্রিয় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার পক্ষে যায় তা পুরোপুরি নির্ভর করছে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর।
রিজভী ছাড়াও মহাসচিব পদে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদ। দলের একটি অংশ চাচ্ছে স্থায়ী কমিটি থেকে কাউকে মহাসচিব করতে। তাদের যুক্তি এতে দলের ভারসাম্য রক্ষা হবে। আমির খসরু ও সালাহউদ্দিন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয় সামলাচ্ছেন।
রুহুল কবির রিজভীকে স্থায়ী কমিটির সদস্য করায় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের পদটি ফাঁকা হয়েছে। এই পদেও অন্তত তিনজন নেতা আলোচনায়। তারা হলেন—যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, হাবিব উন নবী খান সোহেল, রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনজনই সাবেক ছাত্রনেতা।
এদিকে এই সরকারের প্রথম ৬ মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে ১৬ আগস্ট। অন্যদিকে, ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে রাষ্ট্রপতি হিসাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেবেন ২০ অথবা ২১ আগস্ট।
দায়িত্বশীল সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণের পরপরই বর্তমান মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করা হতে পারে। এ নিয়ে বর্তমানে বিএনপির সর্বস্তরে আলোচনা ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হতে আগ্রহীদের মধ্যে যেমন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে; তেমনি অস্থিরতা বিরাজ করছে বাদ পড়ার আশঙ্কায় থাকা মন্ত্রীদের মধ্যেও। উভয়পক্ষই প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্রভাশালী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সিনিয়র মন্ত্রী ও নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ করে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন।
আগ্রহীরা তদবির করছেন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে; আর বাদ পড়ার আশঙ্কায় থাকা মন্ত্রীরা চেষ্টা চালাচ্ছেন টিকে থাকতে।


