রাশিয়ার সঙ্গে সাড়ে চার বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কিছু প্রস্তাব দিয়েছে ইউক্রেন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে দেওয়া ভিডিও ভাষণে এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি।
জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রস্তাবগুলো মার্কিন পক্ষের কাছে পৌঁছে দিয়েছি।’ তবে প্রস্তাবগুলোর বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। খবর আলজাজিরার।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সহায়তা করতে পারে। এর মাধ্যমে মস্কোকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পরিবর্তে যুদ্ধের অবসানের প্রস্তুতি নিতে বাধ্য করা সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় পক্ষ থেকেই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনাকারীরা শিগগিরই দুই দেশ সফর করতে পারেন। তবে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধে চলমান আলোচনা বেশ কিছুদিন ধরে কার্যত অচল হয়ে আছে।
২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযান শুরুর পর থেকে যুদ্ধ বন্ধে একাধিক দফা আলোচনা হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে যুদ্ধ শুরু করার পর সেই প্রক্রিয়া আরও স্থবির হয়ে পড়ে। মার্কিন আলোচনাকারী স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার সর্বশেষ জানুয়ারিতে মস্কো সফর করেছিলেন। তবে তারা এখনো কিয়েভ সফর করেননি।
দীর্ঘদিনের যুদ্ধের পর ইউক্রেন বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে রাশিয়াও সমঝোতার কথা বলছে। তবে মস্কোর দাবি, যেকোনো সমাধানের অংশ হিসেবে ইউক্রেনকে রাশিয়ার দাবি করা চারটি অঞ্চল পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে এবং সংঘাতের ‘মূল কারণগুলো’ও সমাধান করতে হবে।
এদিকে জেলেনস্কি তার ভাষণে অভিযোগ করেন, আগামী মাসের রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সদস্য সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছে মস্কো।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের নামে এই প্রহসনের পর’ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বছরের শেষ নাগাদ আরও কয়েক লাখ রুশ নাগরিককে দ্রুত সেনাবাহিনীতে নিয়োগের পরিকল্পনা করছেন। আগামী বছরও একই সংখ্যক লোককে সেনাবাহিনীতে নেওয়া হতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।
জেলেনস্কির অভিযোগ, এর মাধ্যমে রাশিয়ায় যুদ্ধের প্রতি জনগণের সমর্থন রয়েছে—এমন একটি ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হবে। তবে মস্কোর কর্মকর্তারা এর আগে নতুন করে সেনা সমাবেশের প্রয়োজনীয়তার কথা অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, প্রায় চার বছর রাশিয়ায় আটক থাকার পর সাবেক মার্কিন মেরিন সেনা রবার্ট গিলম্যানকে মুক্তি দিয়েছে মস্কো।
ট্রাম্প বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন মানবিক কারণে ৩২ বছর বয়সি গিলম্যানকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছেন। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো বন্দিকে মুক্তি দেয়নি বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার রাতে গিলম্যানের ওয়াশিংটনের কাছে অ্যান্ড্রুজ এয়ার ফোর্স বেসে পৌঁছানোর কথা ছিল। তাকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে মস্কোর ওপর চাপ দিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে বিমানে চিকিৎসকেরা গিলম্যানের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করবেন। এরপর তাকে টেক্সাসের সান আন্তোনিওর একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হবে।
২০২২ সালের জানুয়ারিতে এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথিত সংঘর্ষের পর রাশিয়ায় গিলম্যানকে আটক করা হয়। পরে তাকে ‘অন্যায়ভাবে আটক’ ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে যুক্তরাষ্ট্র।


