শোকজের পর বদলি সেই দুই এসিল্যান্ড

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের দুই সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে অফিসে হাজির না হওয়া এবং আগাম হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) জাকিয়া সরওয়ার লিমা। উপজেলা ভূমি অফিসে প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গরহাজির পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় থেকে এ নির্দেশনা এসেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার দেবযানী করকে খুলনায় এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার অংমাচিং মারমাকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়েছে।

এর আগে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার সাদিয়া আক্তারকেও অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি সদরেই দায়িত্বে রয়েছেন।

নোটিশে বলা হয়েছিল, সোমবার সকালে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ভূমি অফিস পরিদর্শনে গেলে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে উপস্থিত পাননি। তাদের উপস্থিত পাওয়া না গেলেও ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় আগের দিন স্বাক্ষর করে গেছেন। যা গর্হিত অপরাধ এবং সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ২০১৮-এর ‘খ’ ধারার অপরাধের শামিল।

যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত অফিসে অনুপস্থিত থাকা কিংবা বিলম্বে উপস্থিত হওয়া সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা ২০১৯-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করা হয়। নোটিশে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে এর কারণ জানতে চাওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে, সদর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ সার্কেলের ১৮ জনকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুস সাত্তার, সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামান, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মাসুম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তার, সার্টিফিকেট সহকারী সাদিয়া আক্তার, চেইনম্যান মীর মোজাম্মেল হক, অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম (রূপম), অফিস সহায়ক ইউনূস আলী, অফিস সহায়ক মোক্তার হোসেন, গাড়িচালক নাদিম হায়দার, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো ফারুক আলম, সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী জান্নাত হোসেন, নাজির কাজী তানজিরুল হক, অফিস সহায়ক মোকলেছ শেখ, চেইনম্যান রফিকুল ইসলাম, ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মিল্টন রায় ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাহাদাত।

তারা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়ার কাছে আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিত দিয়েছেন জানিয়ে আরডিসি জাকিয়া সারোয়ার লিমা বলেন, সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী একজন কর্মকর্তা-কর্মচারী একই অফিসে তিন বছরের বেশি থাকার সুযোগ নেই। যারা এই সময়ের বেশি একই অফিসে রয়েছেন তাদের তালিকা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে তাদের বিষয়েও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট সকালে নারায়ণগঞ্জ নগরীর খানপুর এলাকায় অবস্থিত সদর উপজেলা ভূমি অফিসে যান ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। এ এলাকায় একই চত্বরে পাশাপাশি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের এবং ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয় রয়েছে।

সকাল ৯টার কয়েক মিনিট আগে কার্যালয়ে ঢোকেন তিনি। কিন্তু ৯টার পরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আসেননি। তখন তিনি হাজিরা খাতা পর্যবেক্ষণ করেন।

অন্তত ২০ মিনিট পর খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া সেখানে উপস্থিত হন। তারও কিছুক্ষণ পর আসেন ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার অংমাচিং মারমা।

আকস্মিক এ পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গরহাজির ও হাজির না থেকেও খাতায় আগাম স্বাক্ষর করায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসককে তদন্তের নির্দেশ দেন।