গাজায় চ্যারিটি সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের (ডব্লিউসিকে) সাতজন ত্রাণকর্মীকে ড্রোন হামলায় হত্যার নির্দেশদাতা ইসরাইলি সেনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই হামলার জন্য তিনি ‘অনুতপ্ত নন’।
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই অভিযানের কমান্ডার কর্নেল নোচি মেন্ডেল বলেন, ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল ত্রাণবাহী বহরে হামলা চালানোর যে সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন, তিনি এখনো সেটার পক্ষে রয়েছেন।
এবিসি জানায়, ২০২৫ সালের অক্টোবরে সাক্ষাৎকারটি রেকর্ড করা হয়েছিল।
হামলায় নিহত সাতজন কর্মীর মধ্যে ফিলিস্তিন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও পোল্যান্ডের নাগরিক ছিলেন।
মেন্ডেল বলেন, ‘আমি কমান্ডার এবং আমিই এই অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলাম। আমি পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে যাইনি। আমি বলেছি যে আমি আদেশ দিয়েছি; তাই অন্য কাউকে খোঁজার দরকার নেই।’
তিনি আরও জানান, ডব্লিউসিকে কর্মীদের হত্যা করা তার উদ্দেশ্য ছিল না, তবে তিনি যোগ করেন, ‘আমি যা করেছি তার জন্য আমি অনুতপ্ত নই।’
এই হামলার পর ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর নাহাল পদাতিক ব্রিগেডের চিফ অব স্টাফ পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ইসরাইলি সেনাবাহিনী সে সময় জানিয়েছিল, যুদ্ধ পরিচালনার নিয়ম লঙ্ঘন এবং নীতিমালার নানা ব্যর্থতার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে, চলতি মাসের শুরুতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, তারা এই হামলার ঘটনায় কোনো অপরাধমূলক বা ফৌজদারি তদন্ত শুরু করবে না।
ইসরাইলের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া। এক যৌথ বিবৃতিতে দেশ তিনটি এই সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং সামরিক বাহিনী কেন তদন্ত করতে অস্বীকার করল তার কোনো ব্যাখ্যাও দেয়নি বলে উল্লেখ করেছে।
বিশ্ব মানবতা দিবসের দিনে তদন্তের বিষয়টি নাকচ করে দেওয়াকে তারা ‘অত্যন্ত ন্যক্কারজনক’ বলে মন্তব্য করে জানায়, ‘এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা এবং তাদের পরিবার বিচার ও জবাবদিহিতা পাওয়ার যোগ্য। আমরা তাদের পক্ষে জবাব চাওয়া অব্যাহত রাখব।’
সাক্ষাৎকারে ওই সেনা কর্মকর্তা এই মৃত্যুর জন্য ডব্লিউসিকে-র ভুল এবং গাজায় যুদ্ধক্ষেত্রের জটিলতাকে দায়ী করেন। তিনি দাবি করেন, হামলার রাতে ডব্লিউসিকে এবং হামাস যোদ্ধাদের মধ্যে ‘যোগাযোগ’ ছিল।
তিনি বলেন, ‘সুতরাং ডব্লিউসিকে-ও নিরপেক্ষ কোনো সংস্থা নয়। আপনি বলতে পারবেন না যে তারা একেবারে নিষ্পাপ। হামাসের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিল।’
উল্লেখ্য, ডব্লিউসিকে ইসরাইলি কর্মকর্তার এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও অপমানজনক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
সংস্থাটির এক মুখপাত্র এবিসি-কে বলেন, ‘এটি ইসরাইলি বাহিনীর (আইডিএফ) নিজস্ব কর্মকাণ্ড থেকে দায় সরানোর একটি নতুন চেষ্টা। যে ব্যক্তি এই মানহানিকর দাবি করছেন, তার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি সরাসরি সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িত ছিলেন যার ফলে ১ এপ্রিলের ওই হামলা ঘটেছিল এবং গুরুতর নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। আমাদের যে সাতজন সহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, তাদের হত্যার একটি সম্পূর্ণ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে আমরা সত্য ও বিচার দাবি করছি।’


