পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অতিরিক্ত চিনি ও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ের বিক্রি নিয়ন্ত্রণে নতুন একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসব পানীয় বিক্রি নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের জন্য কঠোর জরিমানা ও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। খবর সামা টিভি অনলাইনের।
বিলে বলা হয়েছে, নির্ধারিত মাত্রার চিনি বা ক্যাফেইন অতিক্রম করা পানীয় বাজার থেকে প্রত্যাহারের ক্ষমতাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হবে।
প্রস্তাবিত আইনের আওতায় ইসলামাবাদের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত চিনি ও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় বিক্রি নিষিদ্ধ করা হবে। পাশাপাশি ১৮ বছরের কম বয়সিদের কাছেও এসব পানীয় বিক্রি করা যাবে না।
বিলে নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আর্থিক জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথমবার আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম এক লাখ রুপি জরিমানা করা হবে। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুনরায় একই অপরাধ করলে জরিমানা বাড়িয়ে দুই লাখ রুপি করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এছাড়া কোনো পানীয়তে নির্ধারিত মাত্রার বেশি চিনি বা ক্যাফেইন পাওয়া গেলে সেটি বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে কর্তৃপক্ষের হাতে।
সিনেটর সামিনা মুমতাজের উত্থাপিত এ বিলের মাধ্যমে ‘ইসলামাবাদ ফুড সেফটি অ্যাক্ট ২০২১’-এ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিলে বলা হয়েছে, প্রতি ১০০ মিলিলিটার পানীয়ে ৩২ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফেইন থাকলে সেটিকে ‘উচ্চ-ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। একইভাবে প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ৬ গ্রামের বেশি চিনি থাকলে সেটি ‘উচ্চ-চিনিযুক্ত পানীয়’ হিসেবে গণ্য হবে।
এছাড়া কোমল পানীয়ের সংজ্ঞা সম্প্রসারণ করে কার্বোনেটেড ড্রিংকস, এনার্জি ড্রিংকস এবং উচ্চমাত্রার চিনি বা ক্যাফেইনযুক্ত স্বাদযুক্ত পানীয়কেও এর আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলোর মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থী ও ১৮ বছরের কম বয়সিদের মধ্যে এসব পানীয়ের সহজলভ্যতা কমানো, আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পানীয় বাজার থেকে অপসারণের সুযোগ তৈরি করা।


