চরফ্যাশনে পাটগাছ কাটা নিয়ে সংঘর্ষ, ৬ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম

স্টাফ রিপোর্টার: ভোলার চরফ্যাশনের শশীভূষণ থানা এলাকায় পাটগাছ কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষে নারী-পুরুষসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত ফরিদ ও সামিয়াকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতদের চরফ্যাশন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

বুধবার বিকেলে উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের ওমরাবাজ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন—ফরিদ, আকতারা বেগম, রাশেদা বেগম, সামিয়া, শফিউল্লাহ মেম্বার, সিয়াম ও সাখাওয়াত হোসেন। তবে আহতের সংখ্যা ও ঘটনার বিবরণ নিয়ে দুপক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

মামলার এজাহার ও বাদী শফিউল্লাহর ভাষ্যমতে, জমি নিয়ে তাদের সঙ্গে হাজারীগঞ্জ এলাকার মৃত লুৎফুর রহমানের ওয়ারিশদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

বুধবার শফিউল্লাহসহ তার লোকজন বাড়ির পাশে তাদের ভোগদখলীয় জমিতে রোপণ করা পাটগাছ কাটতে গেলে প্রতিপক্ষের মুছলিমা, সাখাওয়াত ও মনিরসহ ১০-১২ জন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় নারী-পুরুষসহ তাদের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন বাদী।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিপক্ষের আহত সাখাওয়াত বলেন, “তারা আমাদের জমির পাটগাছ কেটেছে—এটা মিথ্যা। তারা আমাদের জমির পাটগাছ কাটলে আমরা ভিডিও করি। এ সময় শফিউল্লাহ মিয়া আমাদের ওপর হামলা করেন। এতে আমাদের লোকজনও আহত হয়েছে।”

অর্থাৎ পাটগাছ কে কেটেছে এবং প্রথমে কার পক্ষ থেকে হামলা হয়েছে—এ নিয়ে দুপক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।

এ ঘটনায় শফিউল্লাহ বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে শশীভূষণ থানায় মামলা করেছেন।

শশীভূষণ থানার ওসি ফিরোজ আহম্মদ জানান, পাটগাছ কাটা নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনাটি জমি ও পাটগাছ কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের নাকি পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিত হামলা—তা তদন্ত শেষে স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।