গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর জঙ্গিদের তৎপরতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আছে। তাদের নেটওয়ার্ক ভেঙে গেছে বলেও জানিয়েছেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) প্রধান মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (০১ জুলাই) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আসাদুজ্জামান বলেন, এর ফলে দেশে বড় ধরনের কোনো জঙ্গি হামলা হয়নি।
সিটিটিসির প্রধান বলেন, হোলি আর্টিজান হামলার পর ঘটনায় জড়িত সব জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়। যে পাঁচজন জঙ্গি হামলায় অংশ নিয়েছিলেন, তাঁরা সবাই ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ অভিযানে নিহত হন। এছাড়া, জঙ্গি হামলায় সম্পৃক্ত ১৩ জন সিটিটিসির বিভিন্ন অভিযানে নিহত হন। হোলি আর্টিজানে হামলার পর সিটিটিসি কল্যাণপুরে অপারেশন স্ট্রম২৬, নারায়ণগঞ্জের অপারেশন হিট স্ট্রম এবং গাজীপুরের পাতার টেকে অপারেশন স্পেট-৮সহ দেশে উচ্চমাত্রার (হাইলি রিস্ক) অভিযান চালায়। সিটিটিসির গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে পরিচালিত এসব অভিযানে ৬৩ জন জঙ্গি নিহত হন। সিটিটিসির এমন তৎপরতার কারণে জঙ্গিদের তৎপরতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আছে।
সিটিটিসির প্রধান বলেন, ‘সিটিটিসি শুধু জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে অভিযানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। অভিযানের পাশাপাশি তারা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন সব কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ছাত্র–শিক্ষক, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন ও জনপ্রতিনিধি, কারারক্ষী, কারা কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। এ নিয়ে সারা দেশে ১৭৪টি সভা সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা হয়েছে। জনগণকে সম্পৃক্ত করে জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে। এই অবস্থায় জঙ্গিদের হামলা চালানোর সক্ষমতা নেই বললেও চলে।


