ট্রাইব্যুনালের কাছে ‘প্রোটেকশন’ চাইলেন প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে ‘প্রোটেকশন’ চেয়ে আরজি জানিয়েছেন প্রসিকিউটর এবিএম সুলতান মাহমুদ। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ‍্যগ্রহনকালে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর কাছে তিনি এ আরজি জানান।

ট্রাইব্যুনালের এজলাসে আসামির কাঠগড়ায় গ্রেফতার সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম প্রসিকিউটর এবিএম সুলতান মাহমুদের উদ্দেশে উঁচু স্বরে কথা বলেন। এক পর্যায়ে সুলতান মাহমুদ ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে বলেন, মাই লর্ড আমি প্রোটেকশন চাই।

এদিন সকালে কারাগার থেকে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী নেতা কামরুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। পরে তাদেরকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসে আসামির ডকে হাজির করা হয়। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের চতুর্থ সাক্ষি হিসেবে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হানিফ মিয়া জবানবন্দি দিতে শুরু করেন।

সাক্ষির কাঠগড়ায় দাড়িয়ে হানিফ মিয়া জুলাই আন্দোলনে কারফিউ চলাকালে রাজধানীর বাড্ডা-রামপুরায় সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়ে সাক্ষ‍্যের একপর্যায়ে বলেন, ‘এসব অপরাধের জন্য ১৪ দলের নেতারা দায়ী। কারণ তিনি টিভিতে এই নেতাদের মিটিং করে আন্দোলন কারীদের দমন-পীড়ন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা শুনেছিলেন।’

তখন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘আপনি ১৪ দলের নেতাদের কথা বলছেন, তাদের নাম বলেন। তখন আসামিদের জন্য সংরক্ষিত কাচের গ্লাসের ভেতর থেকে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী নেতা কামরুল ইসলাম প্রসিকিউটরের উদ্দেশ্য উচ্চ স্বরে বলতে থাকেন, এভাবে বললে তো হবে না। আমার ৪০ বছরের ওকালতির ক্যারিয়ার। আপনি সাক্ষিকে দিয়ে জোর করে নাম বলাচ্ছেন?’

তখন সুলতান মাহমুদ কামরুল ইসলামের উদ্দেশে জবাবে বলেন, ‘আপনি এভাবে সাউট করেন কেন? আপনার কিছু বলার থাকলে আইনজীবীর মাধ্যমে বলবেন।’

এ সময় আরেক প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মনে হয় জবানবন্দি ভুল করেননি। প্রসিকিউশনের একটাই টার্গেট, একটাই উত্তর চাই। সাক্ষী ১৪ দলের কথা বলায়, তিনি নাম বলতে বলেছেন।

এক পর্যায়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীদ মুনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘এ বিষয়টি আসামিকে সনাক্তকরণের। আপনারা প্রশ্ন করে নাম বলাচ্ছেন?’ জবাবে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, এটা লিডিং প্রশ্ন না। পরে, সাক্ষী আবার তার জবানবন্দি দিতে শুরু করেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটির আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়। ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা হয়।