প্রায় ৫ লাখ সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে ১৭ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা) হাতিয়ে নেওয়ার এক বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারি সামনে এসেছে তুরস্কে। ভুয়া ও নিয়মবহির্ভূত বিনিয়োগ ফান্ডের মাধ্যমে বাজার থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ তোলা হয়েছিল। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই দেশটির পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা অন্তত ১৩০টি ফান্ড একযোগে বন্ধ করে দিয়েছে।
এর ফলে শেয়ার বাজারে ভয়াবহ ধস নেমেছে এবং ঘটনাটি এখন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সরকারের জন্য এক বিরাট রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে।
তদন্তে জানা গেছে, এই প্রতারক ফান্ডগুলো বাজারে কম থাকা কিছু শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়ে দিত।
উদাহরণস্বরূপ, একটি ফান্ড গত এক বছরে ১,৫০০ শতাংশের বেশি লাভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করেছিল। কিন্তু এই প্রতারণার পেছনে দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগসাজশ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
এমনকি এই অনিয়মে যুক্ত থাকা বেশ কিছু ব্রোকারেজ হাউজ ও ফান্ডের পরিচালনা পর্ষদে এরদোগানের সাবেক ও বর্তমান উপদেষ্টা, সরকারি পদাধিকারী এবং মন্ত্রীদের স্বজনরা ছিলেন।
বিতর্ক বাড়তেই ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী ও সাবেক মন্ত্রী ফাতমা বেতুল সায়ান কায়া গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিজ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, শেয়ার বাজারে ধস নামার ঠিক আগেই তিনি নিজের সমস্ত শেয়ার অস্বাভাবিক দামে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা তুলে নেন।
ইতোমধ্যে প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত একাধিক ফান্ডের চেয়ারম্যান এবং দায়িত্বশীলদের পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃতদের তালিকায় বর্তমান ডেপুটি অর্থমন্ত্রীর জামাতাও রয়েছেন, যিনি বিতর্কিত একটি শেয়ার কারসাজিতে মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন।
পরিস্থিতি জটিল হতে দেখে প্রেসিডেন্ট এরদোগান কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, জনগণের কষ্টের টাকায় যারা হাত দিয়েছে, সরকার তাদের কাউকে ছাড় দেবে না।
প্রতারিত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে কর্তৃপক্ষ ৬ মাসের সময়সীমা বেঁধে দিলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ মানুষ তাদের বিনিয়োগের খুব সামান্য অংশই ফেরত পেতে পারেন।
যেসব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ টাকা হারিয়েছেন, তাদের অনেকেই এরদোগানের সমর্থক। ফলে আগামী নির্বাচনে এবং রাজনৈতিক মাঠে এই ঘটনা এরদোগান সরকারের জন্য বড় রকমের বিপদ ডেকে আনতে পারে।


