দিনে স্বাভাবিক, রাতে বাড়ে রক্তচাপ, যে কঠিন রোগের বার্তা দেয়

উচ্চ রক্তচাপ বর্তমানে একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। এ কারণে প্রতি বছর প্রায় অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়। তাই নিয়মিত রক্তচাপ মাপা গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু দিনের রক্তচাপের ওপর নজর রাখলেই সবকিছু জানা যায় না। রাতের রক্তচাপও স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের বেলায় রক্তচাপ স্বাভাবিক দেখালেও রাতে শরীরে কী ঘটছে, সেটিও হৃদ্স্বাস্থ্যের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।

রাতে রক্তচাপ

চিকিৎসকদের মতে, শুধু উচ্চ রক্তচাপের একটি রিডিং দিয়ে পুরো পরিস্থিতি বোঝা যায় না। বিশেষ করে ঘুমের সময় রক্তচাপের পরিবর্তনের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।তারা বলেন, ঘুমের সময় শরীর স্বাভাবিকভাবে শিথিল অবস্থায় থাকে। ফলে রাতে রক্তচাপ দিনের তুলনায় অন্তত ১০ শতাংশ কমে আসার কথা। কিন্তু যদি ঘুমের সময় রক্তচাপ সেই মাত্রায় না কমে, তাহলে স্ট্রোক ও বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতির ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

চিকিৎসকের মতে, কারও যদি নিয়মিত ঘুম ভেঙে যায় বা ঘুম বারবার বিঘ্নিত হয়, তাহলে বিষয়টি উপেক্ষা করা উচিত নয়। এর সঙ্গে রাতে রক্তচাপের অস্বাভাবিকতার সম্পর্ক থাকতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে তা শরীরের ওপর নীরবে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিকতা জরুরি

চিকিৎসকরা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজর রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তার মতে, একদিন রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলেই নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই। ধারাবাহিকভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

গবেষণায় কী বলা হয়েছে?

‘জার্নাল অব দ্য আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এ প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, ঘুমের সময় রক্তচাপ কমে যাওয়া শরীরের স্বাভাবিক সার্কাডিয়ান ছন্দ এবং ঘুমের সময়কার শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার অংশ।

গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে রক্তচাপ বেশি থাকা কিংবা দিনের তুলনায় রাতে প্রত্যাশিত মাত্রায় রক্তচাপ কমে না আসার সঙ্গে হৃদরোগের খারাপ পরিণতি এবং পরবর্তী সময়ে হৃদযন্ত্রের অকার্যকারিতার ঝুঁকি সম্পর্কিত।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, রাতের রক্তচাপ অতিরিক্ত কম থাকাও কিছু ক্ষেত্রে বিরূপ স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। একই সঙ্গে রাতে উচ্চ রক্তচাপের পেছনে জীবনযাপন ও শারীরবৃত্তীয় বিভিন্ন কারণ কাজ করতে পারে। ঘুমের সমস্যা এবং কিছু শারীরিক অসুস্থতাও এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।

তাই শুধু দিনের রক্তচাপ স্বাভাবিক রয়েছে বলেই রাতের পরিস্থিতি উপেক্ষা করা উচিত নয়। বিশেষ করে ঘুমের সমস্যা বা রক্তচাপের ওঠানামা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।