দ. লেবাননের পাহাড়ে হিজবুল্লাহর ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংসের দাবি ইসরাইলের

দক্ষিণ লেবাননের আলি আল-তাহের পাহাড়ে হিজবুল্লাহর ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে ইসরাইল। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এ অভিযানের মাধ্যমে ওই এলাকায় একটি নিরাপত্তা বলয় (সিকিউরিটি জোন) প্রতিষ্ঠার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। খবর আল আরাবিয়ার।

ইসরাইলের দাবি, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ যাতে পুনরায় সেখানে অবস্থান গড়ে তুলতে বা সামরিক সক্ষমতা পুনর্নির্মাণ করতে না পারে, সে জন্য তাদের বাহিনী ওই নিরাপত্তা বলয়ে অবস্থান অব্যাহত রাখবে।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, আলি আল-তাহের পাহাড়ে ইসরাইল একটি ‘বৃহৎ বিস্ফোরণ’ ঘটিয়েছে। এতে ভূকম্পনের মতো কম্পন ও বিকট শব্দ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে ৪ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পের মতো কম্পন অনুভূত হয়। ইসরাইলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযানে ১ হাজার ১০০ টনের বেশি বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে।

এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ দাবি করেন, আলি আল-তাহের ছিল ‘কৌশলগত সন্ত্রাসী অবকাঠামো’, যা গত দুই দশকে ইরানের অর্থায়ন ও পরিকল্পনায় নির্মিত হয়েছিল।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাহাড়ের নিচে ও ওপরে গড়ে তোলা এই অবকাঠামো এবং কমান্ড সেন্টার গ্যালিলি অঞ্চল দখলের সম্ভাব্য ঘাঁটি হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পাশাপাশি এটি সীমান্তবর্তী মেতুলা ও কিরিয়াত শমোনা এলাকার ওপর নজরদারি ও হামলার সক্ষমতা প্রদান করত।

নেতানিয়াহু ও কাটজ আরও বলেন, আলি আল-তাহের পাহাড়ের ওপর ও নিচের অংশে পূর্ণাঙ্গ অভিযানিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ওই এলাকার কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে, ইসরাইল জানিয়েছে যে তারা দক্ষিণ লেবাননে অবস্থান অব্যাহত রাখবে এবং যাকে তারা ‘নিরাপত্তা বলয়’ হিসেবে উল্লেখ করছে, সেই এলাকায় সেনা মোতায়েন রাখবে।