ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে এবং প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে ভারত সফরে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে গত সপ্তাহে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে সর্বশেষ বৈঠক করেন মোদি ও পুতিন। ওই বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে মোদি বলেন, সংঘাত শুরুর পাঁচ বছর পর মানবতার স্বার্থে ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ থেকে বেরিয়ে এসে এর অবসান ঘটানোর সময় এসেছে।
ভারত সফরকালে পুতিন ও মোদির আলোচনায় দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ জানিয়েছেন, বৈঠকে ব্রাহমোস ক্ষেপণাস্ত্রের আধুনিকীকরণ, এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অবশিষ্ট ইউনিট সরবরাহ, সু-৫৭ যুদ্ধবিমান সরবরাহ এবং ভারতে নতুন বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সফরের অংশ হিসেবে পুতিন ব্রিকস বিজনেস ফোরামের বার্ষিক অধিবেশনে ভাষণ দেবেন এবং মোদির সঙ্গে ইনোপ্রম শিল্প প্রদর্শনী পরিদর্শন করবেন। এছাড়া তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে বৈঠক করবেন।
তবে সাত বছর পর ভারত সফরে আসা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পুতিনের কোনো পৃথক পূর্ণাঙ্গ বৈঠকের সূচি নেই বলে জানা গেছে।
শনিবার শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। এতে রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন। পাশাপাশি জাতিসংঘ, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এনডিবি) প্রধানরাও উপস্থিত থাকবেন।
সম্মেলনের শেষ দিনে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’ প্রকাশের মাধ্যমে অধিবেশন সমাপ্ত হবে। এ সময় নরেন্দ্র মোদি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন।


