নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে পারে ইরান, দাবি নেতানিয়াহুর

ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে ইরান ও তাদের মিত্ররা হামলা চালাতে পারে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এমন কোনো হামলা হলে তার জবাবে ‘মাত্রাতিরিক্ত’ সামরিক আঘাত হানা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ইসরাইলের একটি অ্যারো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাঁটি পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন নেতানিয়াহু। ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে তিনি বলেন, ইসরাইলি গোয়েন্দাদের কাছে এমন তথ্য রয়েছে, যাতে ইরান ও তাদের মিত্রদের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক, দুই ধরনের অভিযান পরিচালনার জন্যই প্রস্তুত। ইরানকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরীক্ষা করতে যাবেন না। আপনাদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত আঘাত হানা হবে। আমরা যতটা শক্তিশালী, আপনারা ভাবছেন তার চেয়েও বেশি।’

এদিকে ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যেও উত্তেজনা বেড়েছে। তিনি বলেন, ওই রাতে ইরানে হামলা চালানো হবে না। এর কয়েক ঘণ্টা আগে অবশ্য তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আবারও ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান চালানোর সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘এপিক ফিউরি’।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করবেন, নাকি দেশটিকে পুরোপুরি পরাস্ত করবেন, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। তার ভাষায়, দুই ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের জয় হবে।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলেও তেহরানের বর্তমান নীতিতে পরিবর্তন আসবে না।

তেহরানে এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে আরাগচি বলেন, সম্প্রতি নতুন করে যুদ্ধ শুরুর বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে তিনি ইতোমধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ভাবছেন। এর আগে দুইবার হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষ কী ফল পেয়েছে, তা তারা দেখেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আবার হামলা চালালে আগের চেয়ে ভিন্ন কোনো ফল পাওয়া যাবে না বলে সতর্ক করেন ইরানের এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।