সি.পি. ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি: ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানাধীন মুজিবনগর ইউনিয়নে ১০টি গরু চুরি ও উদ্ধারকে কেন্দ্র করে উদ্ধার ব্যয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তাদের বক্তব্যে মিলছে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য।
লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্রাইম পেট্রোল বিডিকে মুঠোফোনে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই গরুর মালিকরা উদ্ধার হওয়া গরু নিয়ে চলে যান। পুলিশ কেবল সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তিনি আরও বলেন, লালমোহন থানা বা থানার কোনো সদস্য গরু উদ্ধারের ঘটনায় কোনো অর্থ গ্রহণ করেননি।
পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের নূরউদ্দিন মাস্টার ক্রাইম পেট্রোল বিডিকে জানান, ঘটনার সময় তিনি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। তবে স্থানীয়দের কাছ থেকে তিনি জেনেছেন, চুরি হওয়া ১০টি গরু উদ্ধার করতে গিয়ে থানার পুলিশ ও এলাকার কিছু নেতাকে অর্থ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, অতীতে গরু চুরি প্রতিরোধে তিনি এলাকায় পাহারার ব্যবস্থা করেছিলেন। তবে তার এসব বক্তব্যের স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
জানা যায়, লালমোহনের কচুখালী এলাকা থেকে ৬টি এবং পটুয়াখালীর দশমিনা থানাধীন এলাকা থেকে আরও ৪টি গরু উদ্ধার করা হয়। দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, এসআই মাসুম বিল্লার নেতৃত্বে পুলিশ চারটি গরু উদ্ধার করে। তবে গরু উদ্ধারে সহযোগিতাকারী কয়েকজন ব্যক্তির দাবি, এ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন খাতে প্রায় ২০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এ দাবিরও স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, দুলারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, গরু চুরির ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। যার নম্বর ১৬১, তারিখ ০৫ জুলাই ২০২৬।
গরুর মালিক সেলিম জমাদার ও কামাল জমাদার দাবি করেন, চুরি হওয়া গরু উদ্ধারে তাদের মোট ৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তাদের আরও দাবি, স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে অভিযুক্ত পক্ষের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, মাত্র দুই দিনের মধ্যে গরুগুলো উদ্ধার হওয়ার পরও কীভাবে উদ্ধার ব্যয় ৩ লাখ টাকা হলো, যেখানে গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা বলে দাবি করা হচ্ছে। তাদের মতে, ব্যয়ের হিসাব নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে এবং বিষয়টি আরও স্বচ্ছভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, গরু চুরির অভিযোগে আটক আলী হোসেনকে প্রথমে জেলা কারাগারে পাঠানো হলেও পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে আদালত তাকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেন।
ঘটনাটি ঘটে ০৫ জুলাই ২০২৬, শনিবার, চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানাধীন মুজিবনগর ইউনিয়নে।
(চলমান — পর্ব ২)


