লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরাইলি সেনাদের উপস্থিতির জন্য হিজবুল্লাহকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র আল জাজিরাকে দেওয়া বক্তব্যে বলেছেন, হিজবুল্লাহই লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর অবস্থানের পেছনে মূল দায় বহন করছে।
মার্কিন ওই কর্মকর্তা হিজবুল্লাহকে লেবাননের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ‘প্রধান বাধা’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, হিজবুল্লাহর সামরিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকায় দেশটির স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ‘পাইলট জোন’ কর্মসূচির ওপর জোর দিয়েছে। এই ব্যবস্থার আওতায় ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের নির্দিষ্ট কিছু এলাকা থেকে ধাপে ধাপে সরে যাবে এবং সেই এলাকাগুলোতে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে। ওয়াশিংটনের মতে, দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বর্তমানে এটিই সবচেয়ে কার্যকর পথ।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানের মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। শনিবার ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিন শিশুও রয়েছে। হামলাটি জুনে ইসরাইল-লেবানন সমঝোতার পর দক্ষিণ লেবাননে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।
ইসরাইল জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর হামলায় তিন ইসরাইলি সেনা আহত হওয়ার পর প্রতিশোধ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে। ইসরাইল আরও দাবি করেছে, হামলায় হিজবুল্লাহর এক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে লেবাননের সরকার হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার অভিযোগ তুলেছে।
জুনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া কাঠামোগত সমঝোতায় দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি বাহিনীর পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাহার এবং হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার ও হিজবুল্লাহর অস্ত্র ত্যাগ—দুই বিষয়েই মতবিরোধ রয়ে গেছে।


