৯ মাস পর কারাগারে পরিবারের দেখা পেলেন ইমরান খান

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান দীর্ঘ নয় মাস পর অবশেষে বোন ও স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন। কারাগারে থাকা এই নেতার শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবারের উদ্বেগের মধ্যেই দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সপ্তাহে একদিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে তাদের সাক্ষাৎ হয়। খবর সামা টিভি অনলাইনের।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে প্রথমবারের মতো ইমরানের সঙ্গে দেখা করেন তার বোন নোরিন নিয়াজি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, কারাগারের কনফারেন্স রুমে মাত্র ১৫ মিনিট স্থায়ী হয় এই সাক্ষাৎ। এ সময় ইমরানের শারীরিক অবস্থা ও সাম্প্রতিক চিকিৎসা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

নোরিন নিয়াজি ইমরান খানকে সুপ্রিম কোর্টের সেই গুরুত্বপূর্ণ আদেশের বিষয়টিও অবহিত করেন, যেখানে তাকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে বৈঠকের পর রাজনৈতিক বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন তার বোন। কারণ, শীর্ষ আদালত আগেই সতর্ক করে দিয়েছিল যে—এই সাক্ষাৎকে যদি কোনো ধরনের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়, তবে দেওয়া সুবিধাটি বাতিল করা হবে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে ইমরানের অন্যান্য বোন—আলিমা খান, উজমা খান কিংবা তার ফুফাতো ভাই কাসিম জামানকে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এমনকি পিটিআই-এর কোনো রাজনৈতিক নেতাকেও জেলের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

বোনের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি পৃথকভাবে স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গেও দেখা করার সুযোগ পান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। দ্য এক্সপ্রেস ট্রিব্যুনালের তথ্যমতে, আদিয়ালা জেলের একই কনফারেন্স রুমে ইমরান ও বুশরা বিবির এই সাক্ষাৎ স্থায়ী ছিল প্রায় ৩৫ মিনিট।

একই জেলে বন্দী থাকা বুশরা বিবিও দীর্ঘদিন পর তার আগের সংসারের সন্তান মুসা, মুবাশশারা মানেকা এবং জা মেহেরুন্নেসার সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট সময় কাটান।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সাল থেকে একাধিক মামলায় রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে কারাবন্দী রয়েছেন ৭২ বছর বয়সি ইমরান খান। বর্তমানে তিনি আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে শীর্ষ আদালত দুই দিনের মধ্যে তাকে শিফা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার নির্দেশ দেয়, যেখানে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত তার চিকিৎসা চলার কথা রয়েছে।