আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি-র ওপর সরাসরি কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকের সময়ই এই নিষেধাজ্ঞা চূড়ান্ত ঘোষণা করা হতে পারে। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।
এর আগে ইসরাইলি নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির কারণে আইসিসির কিছু বিচারক ও কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও, এবার পুরো প্রতিষ্ঠানটিকেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার প্রস্তুতি চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন পদক্ষেপে আইসিসির দৈনন্দিন কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট একটি সময়সীমার পর মার্কিন ডলার বা মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আইসিসি আর কোনো ধরনের লেনদেন করতে পারবে না। এর ফলে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে আদালত কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। এমনকি আইসিসির প্রযুক্তিগত সেবা কেনা, বীমা পরিচালনা কিংবা তদন্তকারীদের বেতন-ভাতা দেওয়ার মতো সাধারণ কাজগুলোও মারাত্মক সংকটে পড়বে।
নেপথ্য কারণ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পর থেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে মার্কিন প্রশাসন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এই আদালতকে একঘরে করতে এবং প্রয়োজনে এর কার্যক্রম থামিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর।
অন্যদিকে, আদালতের কাজ রক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) তাদের বিশেষ সুরক্ষা আইন বা ‘ব্লকিং স্ট্যাটাস’ অবিলম্বে চালুর আহ্বান জানিয়েছেন আইসিসির বিভিন্ন কর্মকর্তা ও আইন বিশেষজ্ঞরা, যাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হাত থেকে আইসিসিকে রক্ষা করা যায়।
তবে মার্কিন প্রশাসনের এমন চাপের মুখেও আন্তর্জাতিক বিচার ও আইসিসির কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অনড় রয়েছে আদালত ও এর সমর্থক দেশগুলো।


