জাতিসংঘে ইরানের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরার অঙ্গীকার পেজেশকিয়ানের

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অবস্থান ‘দৃঢ়ভাবে’ তুলে ধরার অঙ্গীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা মাথা উঁচু করে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসেছি। এটি আমাদের সবার জন্য মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়। তাই আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে আমরা আমাদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে রক্ষা করব।’

বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে ইরানি প্রেসিডেন্টের।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইরানের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরতে আমরা এই সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করব। আমরা আমাদের প্রতিপক্ষদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেব, সব ধরনের অবিচার ও অন্যায়ের পরও ইরানের জনগণ তাদের অবস্থানে অটল রয়েছে।’

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের ওপর হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তার পর এই প্রথম কোনো শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন। পেজেশকিয়ানই হবেন যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র সফরকারী সর্বোচ্চ পর্যায়ের ইরানি কর্মকর্তা।

যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকলেও জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশ নিতে ইরানি প্রতিনিধিদলের একটি অংশকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের অনুমতি দিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে তাদের চলাচলের ওপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্টের যোগাযোগ টিমকে ভিসা দেওয়া হয়নি। ফলে তারা নিউইয়র্ক সফরে অংশ নিতে পারছেন না। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইরানি প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র হাবিবুল্লাহ আব্বাসি এ সিদ্ধান্তকে ‘বৈরিতাপূর্ণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

এদিকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের চলমান উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল ও গ্যাস এই সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।

বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে এবং তাদের অনুমোদন ছাড়া জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে।

এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা অবরোধ বজায় রাখার পাশাপাশি দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে।