বাংলাদেশের দুস্থ, দরিদ্র, প্রতিবন্ধী, এতিম ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে রয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, শিশু সুরক্ষা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, এতিমদের পুনর্বাসন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের জন্য সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব এই প্রতিষ্ঠানের ওপর ন্যস্ত।
কিন্তু দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠছে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করার কথা, সেসব প্রতিষ্ঠানের একটি অংশে দুর্নীতির কারণে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকায় নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করা, কার্ড নবায়ন কিংবা সুবিধাভোগীর তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ঘুষ দাবি করেন। এছাড়া মৃত ব্যক্তি কিংবা অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম তালিকায় রেখে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত কিছু এতিমখানা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। প্রকৃত অসহায় মানুষের পরিবর্তে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা তাঁদের স্বজনদের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনাও একাধিক এলাকায় পাওয়া গেছে।
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি করা হয়। পরে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। এসব কারণে সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
বিভিন্ন এলাকায় অভিযোগ উঠেছে, কিছু কর্মকর্তা দীর্ঘ ৮ থেকে ১০ বছর একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী চক্র গড়ে তুলেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ভাতার তালিকা প্রণয়ন, অনুদান বণ্টন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, কিছু কর্মকর্তা নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থেকেও দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর করেন না, আবার ইচ্ছামতো অফিসে আসা-যাওয়া করেন। এসব বিষয়ে অভিযোগ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
এছাড়া সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে কম্পিউটার, প্রিন্টারের কালি, কলমসহ বিভিন্ন অফিস সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভুয়া বিল, অতিরিক্ত মূল্য দেখানো এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে।
সি.পি. ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
পর্ব–২-এ প্রকাশ করা হবে—
অভিযোগে উঠে আসা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযুক্ত ব্যক্তি, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য, তাঁদের বক্তব্য (যদি পাওয়া যায়) এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের বিশ্লেষণ।
সম্পাদকের নোট: এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো বিভিন্ন ভুক্তভোগী, সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পূর্বে প্রকাশিত অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্য নেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং যথাযথ প্রমাণ যাচাই করা সাংবাদিকতার নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব।


