অনুসন্ধানের সি.পি. ইনভেস্টিগেশন এজেন্সিঃ নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) দেশের খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ, সরবরাহ ও বিক্রয় ব্যবস্থার মান নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কার্যক্রমে সমন্বয় সাধন, খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক, ভেজাল উপাদান ও সংরক্ষণকারীর (প্রিজারভেটিভ) নিরাপদ মাত্রা নির্ধারণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি। এছাড়া ভেজাল বা অনিরাপদ খাদ্য সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষ ১৬১৫৫ নম্বরে টোল-ফ্রি কল সেন্টার পরিচালনা করছে।
তবে মাঠপর্যায়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্নও উঠেছে। বিভিন্ন সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে পরিদর্শনের নামে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, মাসিক চাঁদা আদায়, নতুন নিবন্ধন ও লাইসেন্স প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা এবং ব্যবসায়ীদের হয়রানির মতো অনিয়মের ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ রয়েছে, রেস্তোরাঁ, বেকারি ও খাদ্যপণ্যের দোকানে পরিদর্শনের সময় কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ঘুষ বা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেন। এছাড়া প্রভাবশালী কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিথিল ব্যবস্থা গ্রহণের অভিযোগও শোনা যায়।
অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বেকারিতে খাদ্য প্রস্তুত ও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশন করা হলেও নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভোক্তারা।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; প্রয়োজন নিয়মিত ও নিরপেক্ষ তদারকি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি এবং অভিযোগের দ্রুত ও কার্যকর নিষ্পত্তি। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রশ্ন উঠেছে—দেশের সাধারণ মানুষ কি সত্যিই নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ করতে পারছে, নাকি এখনও বাজারজুড়ে ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যের আধিপত্য বিরাজ করছে? এই প্রশ্নের কার্যকর উত্তর নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং কঠোর আইন প্রয়োগের ওপর।


