নিজস্ব প্রতিবেদক: RIVER প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন, ঠিকাদারদের বিল পাস এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রকল্পের কাজে স্থবিরতা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, RIVER প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং ঠিকাদারদের বিল পাসের ক্ষেত্রে আতিকুল ইসলাম ঠিকাদারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন বা ঘুষ দাবি ও গ্রহণ করেছেন। এ ধরনের অনৈতিক লেনদেনের কারণে প্রকল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগকারীদের দাবি।
প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থবিরতার অভিযোগ: অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আর্থিক অনিয়ম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে একক আধিপত্যের কারণে RIVER প্রকল্পের আওতাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না। প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ সময়মতো বাস্তবায়ন না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় এর প্রভাব পড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তাদের দাবি, প্রকল্পের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বরাদ্দ, দরপত্র, কাজের অনুমোদন, ঠিকাদার নির্বাচন এবং বিল পরিশোধের প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ: আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে সম্পদের মালিক হয়েছেন।
বরিশালে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় থেকেই তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগের সূত্রপাত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তার আয়-ব্যয়ের হিসাব, সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রাতিষ্ঠানিক ও আচরণগত অভিযোগও আলোচনায় : আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। তার আচরণ ও দায়িত্ব পালনের ধরন নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি” উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে RIVER প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, দরপত্র প্রক্রিয়া, ঠিকাদারদের সঙ্গে চুক্তি, বিল পরিশোধের তথ্য এবং প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
তাদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করা উচিত।
তবে আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এবং কোনো তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনের ভারসাম্য বজায় রাখতে অবশ্যই প্রকাশ করা প্রয়োজন।


