নিজের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন ককোরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা

ভারতের একটি জেলা পরিষদ উর্দু স্কুলে অনধিকার প্রবেশ, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং শিক্ষকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ‘ককোরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, দলের জাতীয় সাংগঠনিক প্রধান অজিন্ক্য শিন্দে এবং অন্যান্য কর্মীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে মহারাষ্ট্রের পুলিশ।

অভিযোগ উঠেছে, কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছাড়াই তারা স্কুল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে বসেন এবং স্কুলের প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও শিক্ষার মান নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। পুরো ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেন।

এই ঘটনায় স্কুলটির ৫৩ বছর বয়সি শিক্ষিকা সায়্যেদ শামশাদবানো খাইরাতালি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। অভিযোগে বলা হয়, দিপকে ও তার দলবল অনুমতি ছাড়া স্কুলে ঢুকে শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত করেছেন, শিক্ষকদের বরখাস্ত করার হুমকি দিয়েছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে লাতুর পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-র একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে। সরকারি কর্মচারীকে দায়িত্ব পালনে বাধা দিতে বলপ্রয়োগ বা হামলা, বেআইনিভাবে বা অনুমতি ছাড়া প্রাঙ্গণে প্রবেশ (হাউস ট্রেসপাস), অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মানহানি ঘটানোর মতো বেশ কিছু ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

এদিকে, এফআইআর দায়েরের খবর প্রকাশ্যে আসার পর অভিজিৎ দিপকে এক ব্যতিক্রমী উপায়ে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এফআইআর দায়েরের খবরটি শেয়ার করে তিনি কিশোর কুমারের বিখ্যাত গান ‘ইয়ে জীবন হ্যায়’-এর একটি ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করেন। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান যে পরিস্থিতি যেমনই হোক, জীবন এমনই।

শেয়ার করা গানটির লিরিক্সের অর্থ, ‘এটিই জীবন; এই জীবনের এটাই নিয়ম ও রূপ।’

এ ছাড়া ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতেও তিনি সংশ্লিষ্ট সংবাদের স্ক্রিনশট এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি জনপ্রিয় মিম শেয়ার করেছেন—যেখানে বলা হয়েছে ‘ও মাই গড’। ইনস্টাগ্রামেও তিনি ব্যাকগ্রাউন্ডে কিশোর কুমারের একই গানের লাইন ব্যবহার করেন।

উল্লেখ্য, সিজেপি-র দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানের অধীনে গত ২০ আগস্ট লাতুর জেলার জাওয়ালি গ্রামের জেলা পরিষদ উর্দু স্কুলে প্রবেশ করেন দিপকে ও তার সহযোগীরা।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসে হিঙ্গোলি জেলার সন্তুক পিম্পরি গ্রাম থেকে অভিজিৎ দিপকে এই ‘স্কুল ঠিক করো’ প্রচার অভিযান শুরু করেন। তবে শুরু থেকেই বিভিন্ন সরকারি ও স্থানীয় প্রশাসন এই অভিযানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা কড়াকড়ি আরোপ করছে। সম্প্রতি মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল শিক্ষা বিভাগও তাদের আওতাধীন স্কুলগুলোতে অনুমতি ছাড়া সিজিপি কর্মীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

অনুরূপভাবে, রাজস্থানের জয়পুরেও জরাজীর্ণ একটি সরকারি স্কুল পরিদর্শনের সময় সিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। পরবর্তীতে রাজস্থান সরকার স্বীকার করে যে ৬১১টি স্কুল নিজস্ব ভবন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে এবং সেগুলোর জন্য নতুন ভবন নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।