পটুয়াখালীসহ ৫ জেলায় সংঘর্ষ, আহত শতাধিক

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঘিরে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বরিশাল, পটুয়াখালী, মুন্সীগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এর মধ্যে পটুয়াখালীর গলাচিপায় দুপক্ষের মধ্যে পালটাপালটি ধাওয়া, হামলা ও সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের কয়েকজনকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আর বরিশালে কর্মসূচি চলাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একাধিকবার সংঘর্ষে জড়ান।

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে।

ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাডে জানা যায়, পটুয়াখালীতে এদিন সকালে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে পৌরশহরের পৌরমঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভা শেষে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম মোস্তফা ও সদস্য সচিব আলতাব হোসেনের নেতৃত্বে র‌্যালি বের হয়ে শহরের বটতলা মোড়ে পৌঁছালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বহিষ্কৃত সদস্য হাসান মামুনের সমর্থকদের সঙ্গে উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের পালটাপালটি ধাওয়ার পর সংর্ঘষ শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২০ মিনিট ধরে চলা এ সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। এ সময় নেতাকর্মীরা হাবিব হোটেলসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ ঘটনার পর গলাচিপা পৌরশহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইউএনও আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, আমিও সংঘর্ষের কথা শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য পাইনি। বিস্তারিত জানতে ওসির সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি। তবে গলাচিপার ওসি মোহাম্মদ ইমতিয়াজ আহমেদকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটন যুগান্তরকে বলেন, আমি মির্জাগঞ্জের একটি কর্মসূচিতে আছি। গলাচিপার ঘটনা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কিছু জানি না।

বরিশাল: এদিন দুপুরে নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার টাউন হল ও সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি আয়োজিত কর্মসূচি চলাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একাধিকবার হাতাহাতি ও সংঘর্ষে জড়ান। মূলত মিছিলের সামনে যাওয়া ও স্লোগান দেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরে জ্যেষ্ঠ নেতারা ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন ইসলাম বলেন, সামান্য উত্তেজনা হয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে তা নিরসন করা হয়েছে।

শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ): প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান ঘিরে শ্রীনগর জমজম টাওয়ারের সামনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপুর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।

শ্রীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া জানান, পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ: মহানগরের মিশনপাড়ায় বিএনপির মিছিল বের হয়ে চাষাড়া সমবায় মার্কেটের সামনে পৌঁছানোর পর নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাইয়ানের নেতৃত্বে এ সময় শাহীন আহম্মেদ নামে একজনকে মারধর করতে দেখা যায়। পরে পরিস্থিতি শান্ত করেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান।

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম): দুপুরে কর্মসূচি ঘিরে বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ১০ থেকে ১২টি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে পাঁচ পথচারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরে বিক্ষুব্ধরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করলে দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এখন পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।