প্রত্যন্ত অঞ্চলে গরু চুরির হিড়িক

সি.পি. ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি: ভোলা জেলার দক্ষিণাঞ্চলের চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানাধীন মুজিবনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে সেলিম জমাদার ও কামাল জমাদারের মোট ১০টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৬টি ছোট এবং ৪টি বড় গরু ছিল।

ভুক্তভোগীদের দাবি, রাতে গরুগুলো চুরি হওয়ার পর পরদিন সকালে লালমোহন থানাধীন কচুখালী এলাকা থেকে ৬টি এবং পটুয়াখালীর দশমিনা থানাধীন এলাকা থেকে আরও ৪টি গরু উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গরু উদ্ধারে মনির হাওলাদার ও বাচ্চু মিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ঘটনার সূত্রে জানা যায়, ৫ জুলাই ২০২৬ তারিখ সকাল প্রায় ১০টার দিকে গরুসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাদের একজনের পরিচয় জানা না গেলেও অপরজনের নাম আলী হোসেন, পিতা শাহজাহান হাওলাদার, বাড়ি আহম্মদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড। অভিযোগ রয়েছে, তাকে গরু চুরির সন্দেহে মারধর করা হয়। আলী হোসেনের দাবি, শারীরিক নির্যাতনের মুখে তিনি গরু চুরির কথা স্বীকার করেছিলেন।

পরে লালমোহন থানা পুলিশ আলী হোসেনকে আদালতে প্রেরণ করে। তবে আদালতের নথি অনুযায়ী, তদন্তকারী কর্মকর্তা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় তার বিরুদ্ধে অপরাধের দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে আলী হোসেনকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেন এবং মামলাটি নথিভুক্ত করার আদেশ দেন।

এ বিষয়ে মনির হাওলাদার ক্রাইম পেট্রোল বিডিকে জানান, উদ্ধার হওয়া ১০টি গরুর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা এবং গরু উদ্ধারে প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। একই দাবি করেন মুজিবনগর ইউনিয়নের সেক্রেটারি বাচ্চু মিয়াও।

দুলারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ১০টি গরু চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ হয়েছে এবং বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত। দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, তাদের থানাধীন এলাকা থেকে এসআই মাসুম বিল্লাহর মাধ্যমে ৪টি গরু উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, তাদের এলাকা থেকে ৬টি গরু উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে গরু উদ্ধারে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ের দাবি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বাদী কামাল জমাদার এবং আলী হোসেনের পরিবারের সদস্যরা উভয়েই স্বীকার করেছেন যে, তাদের মধ্যে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, রাতে গরু চুরি হওয়ার পরদিন সকালেই সব গরু উদ্ধার হলে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

এছাড়া একটি বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি অনুযায়ী, গরু উদ্ধারের প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয় হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ অভিযোগের স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ ক্রাইম পেট্রোল বিডির হাতে আসেনি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। তাই এ দাবিগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

(চলমান — পর্ব ১)