প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তার ছবিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরে বদলি বাণিজ্যের গুঞ্জন

সি.পি. ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার একই ফ্রেমে থাকা একটি ছবিকে কেন্দ্র করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বলছেন, ওই ছবিকে ঘিরে প্রভাব বিস্তার এবং বদলি-বাণিজ্যের একটি ‘রূপকথার গল্প’ তৈরি করা হচ্ছে। তবে বাস্তবে ওই ছবির কতটুকু প্রভাব বদলি বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে পড়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

অনুসন্ধানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলি সংক্রান্ত অফিস আদেশের কপি আমাদের হাতে এসেছে। প্রাপ্ত নথিতে ৬৬১ নম্বর স্মারক, গেজেট (প্রশাসন-১) শাখা, তারিখ ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ/৪ আগস্ট ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে। এসব বদলির পেছনে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কাজ করেছে, নাকি অন্য কোনো প্রভাব বা সুপারিশ ছিল—তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে আলোচনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে আমাদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বদলি সংক্রান্ত অফিস আদেশগুলোও নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তির সঙ্গে ছবি থাকা কিংবা পরিচিতি থাকাকে কেন্দ্র করে কেউ যদি প্রশাসনিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে থাকেন, সেটি নিঃসন্দেহে তদন্তের দাবি রাখে। কারণ একটি ছবি নিজে কোনো অনিয়মের প্রমাণ নয়; তবে সেই ছবিকে ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, বদলি বা অন্য কোনো প্রশাসনিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে কি না—সেটিই এখন অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতসহ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও সামনে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের অধীনস্থ কোনো দপ্তরে অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ মানুষের কাছাকাছি গিয়ে তাদের কথা শোনা এবং জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার যে রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা তুলে ধরছেন, তা ইতিবাচকভাবে দেখছেন সাধারণ মানুষের একটি অংশ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জনসম্পৃক্ত রাজনীতির ধারাবাহিকতায় জনগণের কাছে গিয়ে তাদের কথা শোনার এই প্রবণতাকে অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন। তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের জনবান্ধব ভাবমূর্তির সুযোগ নিয়ে কোনো কোনো দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার কিংবা প্রশাসনিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন কি না—সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের বদলি সংক্রান্ত প্রাপ্ত নয়টি অফিস আদেশ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং ওই আলোচিত ছবির প্রকৃত প্রেক্ষাপট নিয়ে সি.পি. ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।