অনুসন্ধানে সি.পি. ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর মূল দায়িত্ব দেশের সড়ক পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। প্রতিষ্ঠানটি মোটরযানের নিবন্ধন, ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান, রুট পারমিট, ফিটনেস সনদ, ডিজিটাল নম্বরপ্লেট ও ট্যাক্স টোকেন ইস্যুসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদান করে।
বিআরটিএর কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে নতুন মোটরযানের নিবন্ধন, মালিকানা হস্তান্তর, লার্নার, অপেশাদার ও পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা ও ইস্যু, যানবাহনের রোড ফিটনেস পরীক্ষা ও নবায়ন, বাস ও ট্রাকের রুট পারমিট প্রদান এবং সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা।
তবে বিভিন্ন সময়ে বিআরটিএকে ঘিরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও উঠে এসেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিভিন্ন অনুসন্ধানে দালাল চক্রের সক্রিয়তা, সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ, অবৈধভাবে লাইসেন্স ও নিবন্ধন প্রদান এবং জালিয়াতির মাধ্যমে নম্বরপ্লেট ইস্যুর মতো বিষয় সামনে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু অফিসে দালালদের মাধ্যমে সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করা হয় এবং নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। এছাড়া পদায়ন ও বদলি প্রক্রিয়া নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে দুদক অনুসন্ধান ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, বিআরটিএতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ এবং দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষ আরও দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাবেন। তাদের মতে, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রতিষ্ঠানটির সেবার মান আরও উন্নত করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।


