অনুসন্ধানী সেল: জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে এক কর্মচারীর বদলি প্রত্যাহারের বিনিময়ে এক লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র, চট্টগ্রামে কর্মরত গার্ড (আউটসোর্সিং) জালাল উদ্দিন গত ২৫ জুন ২০২৬ ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর চট্টগ্রাম থেকে সাতক্ষীরায় বদলির আবেদন করেন। আবেদনে তিনি পারিবারিক ও মানবিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেন।
আবেদনে তিনি জানান, তার বাবা কিছুদিন আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বর্তমানে অসুস্থ মায়ের দেখাশোনার জন্য পরিবারের অন্য কেউ না থাকায় মানবিক বিবেচনায় তাকে চট্টগ্রাম থেকে সাতক্ষীরায় বদলি করার আবেদন করেন।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন থেকে ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। ওই আদেশে চট্টগ্রাম থেকে জালাল উদ্দিনকে সাতক্ষীরায় এবং সাতক্ষীরা থেকে আব্দুল মালেককে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়।
কিন্তু মাত্র আট দিনের মাথায় ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পুনরায় অফিস আদেশ জারি করে উভয়ের বদলির আদেশের সংশ্লিষ্ট অংশ বাতিল করা হয়।
প্রত্যাহার আদেশে উল্লেখ করা হয়, ৯ সেপ্টেম্বর জারিকৃত ২৫৪ নম্বর স্মারকের বদলি আদেশে ক্রমিক ৫-এ থাকা জালাল হোসেন, গার্ড (আউটসোর্সিং), প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র চট্টগ্রাম থেকে সাতক্ষীরা এবং ক্রমিক ৬-এ থাকা আব্দুল মালেক, গার্ড, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র সাতক্ষীরা থেকে চট্টগ্রামে বদলির আদেশের তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অংশ বাতিল করা হলো।
একটি বিশেষ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আব্দুল মালেককে সাতক্ষীরা থেকে চট্টগ্রামে বদলি করা হলেও এক লাখ টাকার বিনিময়ে তার বদলি প্রত্যাহার করে তাকে সাতক্ষীরায় রাখা হয়েছে।
তবে ঘুষ লেনদেনের এ অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি। অভিযোগটির স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন।
আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে অতীতে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তারের তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দৈনিক কালের চিত্রে ১২ মে ২০২৪ প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, চাকরি দেওয়ার কথা বলে সাত লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল।
তবে ওই মামলার পরবর্তী তদন্ত বা আইনগত অবস্থার বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বদলি প্রত্যাহারের পেছনে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে যুক্ত করা হবে।


