চীনের সর্বোচ্চ সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন (সিএমসি) থেকে দুই শীর্ষ জেনারেলকে অপসারণ করা হয়েছে। শৃঙ্খলা ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্তের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বেইজিং।
অপসারিত দুই কর্মকর্তা হলেন, সিএমসির ভাইস চেয়ারম্যান ঝ্যাং ইউশিয়া এবং জয়েন্ট স্টাফ ডিপার্টমেন্টের প্রধান লিউ ঝেনলি। গত শুক্রবার তাদের নাম সিএমসির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। একই দিনে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের তালিকা থেকেও তাদের নাম সরিয়ে নেওয়া হয়, যা তাদের পদচ্যুতির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঝ্যাং ইউশিয়া ছিলেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পর চীনের সামরিক কাঠামোর অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনি ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা পলিটব্যুরোর সদস্যও ছিলেন। অন্যদিকে, লিউ ঝেনলি সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা জয়েন্ট স্টাফ ডিপার্টমেন্টের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত চলছিল। তবে অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সরকারি প্রশাসনের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীতেও এই অভিযান ব্যাপকভাবে পরিচালিত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর ওপর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করাও এই অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছে। কেউ দায়িত্ব হারিয়েছেন, আবার কেউ বহিষ্কৃত হয়েছেন। ঝ্যাং ইউশিয়া ও লিউ ঝেনলির অপসারণকেও চলমান এই শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তাদের নাম গত এক মাস ধরে সরকারি কর্মকাণ্ড ও প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর খবর প্রকাশিত হয়। অবশেষে আগস্টের শেষ দিকে এসে তাদের অপসারণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হলো।
এদিকে পৃথক এক ঘটনায় চীনের সেনা কর্মকর্তা ঝাও জঙ্গকিকেও দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক উপদেষ্টামণ্ডলী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালে গলওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় ও চীনা সেনাদের সংঘর্ষের সময় তিনি চীনা বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার ঝাওকে রাজনৈতিক উপদেষ্টামণ্ডলী থেকে অপসারণ করা হয়। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে কি না, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়।


