অনুসন্ধানে সি.পি. ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি: বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান, ব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে।
তথ্য অধিকার আইনের আওতায় বিভিন্ন জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে তথ্য চাওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন আবেদনকারীরা। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীসেবা, ওষুধ সরবরাহ, খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার পরিদর্শনে সরকারি ওষুধ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, চিকিৎসকদের কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, এক্স-রে ও অন্যান্য চিকিৎসা যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন অচল থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ এবং হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অভিযোগ সামনে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু হাসপাতালে সরকারি বরাদ্দের ওষুধ যথাযথভাবে বিতরণ না করে বাইরে বিক্রির চেষ্টা, রোগীদের জন্য নিম্নমানের খাবার সরবরাহ, হাসপাতালের সামনে থাকা বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী পাঠানো এবং বিনামূল্যের কিছু সেবার জন্য অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের মতো অনিয়ম ঘটে থাকে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট ঘটনা অনুযায়ী তদন্তসাপেক্ষ।
এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে অবকাঠামো উন্নয়ন, যন্ত্রপাতি ক্রয়, মেরামত এবং অন্যান্য সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সমস্যা দূর করতে কার্যকর তদারকি, নিয়মিত নিরীক্ষা এবং কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিভিন্ন সময়ে জেলা ও উপজেলা হাসপাতাল পরিদর্শন, অনিয়মের তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও বারবার তুলে ধরা হয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, স্বাস্থ্য খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগই নয়, সাধারণ মানুষের সচেতনতা, তথ্য অধিকার আইনের যথাযথ ব্যবহার এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর সংস্কৃতিও গুরুত্বপূর্ণ। সেবা খাতে জবাবদিহি বাড়ানো গেলে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।


