রাজধানীর উত্তরায় কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে তোলা রেস্তোরাঁ ভা/ঙচুর, কর্মচারীদের প্রাণনাশের হু/মকি এবং নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নারী উদ্যোক্তা নাসরীন জাহান নাজ। সাবেক স্বামী আবু সাঈদ মোহাম্মদ হায়দারের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এনে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু বিচার চেয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১টায় উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর রোডের ১২ নম্বর বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে লিখিত বক্তব্য ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাসরীন নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হারানো, ভ/য়ভীতি এবং পারিবারিক বিরোধের বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।
নাসরীনের ভাষ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর তার সাবেক স্বামী তাকে মালয়েশিয়ায় মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে পাঠান। সেখানে যাওয়ার পর তাকে না জানিয়েই তালাকের নোটিশ পাঠানো হয়। ২১ সেপ্টেম্বর তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে বলে জানান তিনি।
তার অভিযোগ, মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরার পর তাকে ও তার কন্যাসন্তানকে বাসায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া তার পাসপোর্ট ও গাড়ি আ/টকে রাখা হয়।
নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে নাসরীন জানান, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য দিয়াবাড়ির তুরাগ থানাধীন ১৭ নম্বর সেক্টরের এভিনিউ ৬-এ একটি রেস্তোরাঁ গড়ে তুলেছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি মোট ৯ কাঠা জমির ওপর নির্মিত ছিল। এর মধ্যে ৬ কাঠা জমি লিখিত চুক্তির মাধ্যমে তৎকালীন স্বামীর কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছিলেন এবং বাকি ৩ কাঠা জমি তার নিজের কেনা বলে দাবি করেন তিনি।
নাসরীন বলেন, রেস্তোরাঁটি গড়ে তুলতে তিনি কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। প্রতিষ্ঠানের লাভের অর্ধেক ব্যাংকের মাধ্যমে সাবেক স্বামীকে দিতেন বলেও জানান।
তার অভিযোগ, কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই গত ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে ভেকু দিয়ে রেস্তোরাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানকার ইট-বালুও বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নাসরীন অভিযোগ করেন, বিচ্ছেদের পর থেকে সাবেক স্বামী তাকে নানাভাবে ভ/য়ভীতি ও হু/মকি দিয়ে আসছেন। গত ১৪ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তাকে এবং রেস্তোরাঁর কর্মচারীদের প্রকাশ্যে মে/রে ফেলার হু/মকি দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও গুরুতর হু/মকি দেওয়া হয়েছে বলে তার দাবি।
বড় ছেলের গ্রে/প্তারের ঘটনাও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন নাসরীন। তার অভিযোগ, তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করতে গত ২০ অক্টোবর ছেলেকে গ্রে/প্তার করানো হয়েছে। তবে কোন মা/মলায় বা কী অভিযোগে তাকে গ্রে/প্তার করা হয়েছে, দেওয়া প্রতিবেদনে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেই।
নাসরীন আরও অভিযোগ করেন, নিজের রেস্তোরাঁর জায়গায় গেলে ৯৯৯-এ ফোন করে পু/লিশ পাঠিয়ে তাকে ‘ডা/কাত’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। বাইরে বের হলে মোটরসাইকেল দিয়ে ধাওয়া করা, অনুসরণ করে ছবি তোলা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে আপসের চাপ দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে নাসরীন বলেন, গত ১৫ অক্টোবর তুরাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। নিজের ও চার সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সন্তানদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে লেখা ছিল, “আমার জীবনের নিরাপত্তা দিন, অ/পরাধীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
একজন নারী হিসেবে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন ও ব্যবসা পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান নাসরীন। একই সঙ্গে রেস্তোরাঁ ভা/ঙচুর ও হু/মকির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে সরবরাহ করা প্রতিবেদনে এসব অভিযোগের বিষয়ে আবু সাঈদ মোহাম্মদ হায়দারের বক্তব্য কিংবা সাধারণ ডায়েরির তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে পু/লিশের বক্তব্য উল্লেখ নেই।


