সি.পি. ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি | ক্রাইম পেট্রোল বিডি: গাজীপুরের বাসন থানাধীন কলম্বিয়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সামাদ ইলেকট্রনিক্সের মালিক জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন ও জোরপূর্বক বিয়েতে বাধ্য করার অভিযোগ করেছেন প্রিয়াংকা নামের এক নারী। এ ঘটনায় বিয়ে সম্পাদনকারী কাজী মোস্তফা জামান খোকনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্তদের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
ক্রাইম পেট্রোল বিডির বার্তা বিভাগে পাঠানো অভিযোগে প্রিয়াংকা দাবি করেন, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে জোরপূর্বক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করা হয়। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে জাহাঙ্গীর ও প্রিয়াংকার বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের কাবিননামায় বালাম নম্বর ৩/২০২৬, পৃষ্ঠা নম্বর ২৩ এবং দেনমোহর ৩ লাখ টাকা নির্ধারণের তথ্য উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা পরিশোধ দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়।
প্রিয়াংকার দাবি, সামাদ ইলেকট্রনিক্সের গোডাউনে কাজী ডেকে এনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় তিনি গাজীপুরের বিজ্ঞ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (বাসন আমলী) সি.আর. মামলা নম্বর ৬২০/২০২৬ দায়ের করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩৪২, ৪৯৩, ৩৮৬, ৩১৩ ও ৩৪ ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার নথি ও ধারাগুলোর প্রযোজ্যতা সংশ্লিষ্ট আদালতের রেকর্ড থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে জাহাঙ্গীরের বক্তব্য জানতে গত ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ক্রাইম পেট্রোল বিডির বার্তা বিভাগ থেকে তাঁর কাছে লিখিত বক্তব্য চেয়ে আবেদন করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে। তবে প্রতিবেদন প্রস্তুত পর্যন্ত তাঁর কোনো লিখিত জবাব পাওয়া যায়নি বলে বার্তা বিভাগ জানিয়েছে।
এরপর গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পাদনকারী কাজী মোস্তফা জামান খোকনের কাছে বিয়েসংক্রান্ত তথ্য ও লিখিত বক্তব্য চেয়ে আবেদন করা হয়। বার্তা বিভাগের দাবি, এ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা বলার সময় কাজী খোকন নিজেকে ‘ওলামা দলের সভাপতি’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং বলেন, “আমরা এরকম দু-একটা বিয়ে-শাদির বিচার-আচার করে থাকি।” কথোপকথনে তাঁর বক্তব্যের অর্থ ও প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে বার্তা বিভাগ জানিয়েছে।
তবে কাজী খোকনের বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট, বিয়ের সময় তাঁর কাছে কী তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা কী পরিস্থিতিতে সম্পন্ন হয়—এসব বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত লিখিত বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
ক্রাইম পেট্রোল বিডির বার্তা বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়টি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের দপ্তরে পত্রের মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে। এখন অভিযোগের সত্যতা, বিয়ের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।
অনুসন্ধান চলমান। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর ও কাজী মোস্তফা জামান খোকনের বক্তব্য পাওয়া গেলে এবং সংশ্লিষ্ট কাবিননামা ও মামলার নথি যাচাই করা হলে প্রতিবেদনে প্রয়োজনীয় তথ্য সংযোজন করা হবে।


