সম্পত্তি বৈধতার বিবরণ জানতে গেলে সাংবাদিকদের তেরে আসেন ডঃ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিন

সি.পি. ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি | বিশেষ প্রতিবেদন: রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় বসবাসরত ড. ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিনের সম্পত্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নিয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে ক্রাইম পেট্রোল বিডির বার্তা বিভাগ। এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর লিখিত বক্তব্য জানতে চেয়ে চিঠি পাঠানোর পর নির্ধারিত সময়েও জবাব না পাওয়ার দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পরে তাঁর বক্তব্য নিতে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেছেন সি.পি. ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির অনুসন্ধানী দলের সদস্যরা।

সম্পত্তি নিয়ে লিখিত অভিযোগ: ক্রাইম পেট্রোল বিডির বার্তা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে কুমিল্লার কোটবাড়ি থেকে রাজীব নামের এক ব্যক্তি ড. ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও সম্পত্তিসংক্রান্ত অভিযোগ জানিয়ে একটি লিখিত পত্র পাঠান।

অভিযোগপত্রে কুমিল্লা শহরের আজগর আলী পুলিশ রোডের ভেতরে পাঁচতলা বাড়ি, ভরসা বাজার এলাকায় মাছের প্রকল্প ও জমি, কুমিল্লার কোটবাড়িতে বৌদ্ধমন্দিরসংলগ্ন এলাকায় জমি এবং কুমিল্লায় একটি পেট্রোল পাম্প থাকার দাবি করা হয়।

এ ছাড়া, ঢাকার গুলিস্তানে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের বিপরীত পাশে একটি পেট্রোল পাম্পসংলগ্ন মার্কেটের একাধিক দোকান, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বি ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ১৭২ নম্বর বাড়িতে আটতলা ভবন এবং সায়েদাবাদে দুটি বাড়ি থাকার অভিযোগও ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগকারীর দাবি, সায়েদাবাদের একটি বাড়ির নিচতলা গোল্ডেন লাইন বাস কাউন্টার হিসেবে ভাড়া দেওয়া রয়েছে।

তবে এসব সম্পত্তির মালিকানা, প্রকৃত অবস্থান, ক্রয় বা অর্জনের উৎস এবং বৈধতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি এই প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলো যাচাইসাপেক্ষ।

বক্তব্য জানতে চেয়ে চিঠি, জবাব না পাওয়ার দাবি: সি.পি. ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির দাবি, ড. ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানার জন্য গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে লিখিত চিঠি পাঠানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর উল্লেখ করে ৫০ টাকার পোস্টাল অর্ডারের মাধ্যমে তথ্য চাওয়া হয়েছিল। তবে ২১ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে চিঠি প্রাপ্তির প্রমাণ, আবেদনের আইনগত ধরন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাব দেওয়ার বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

সরাসরি যোগাযোগের সময় কী ঘটেছিল? অনুসন্ধানী দলের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, গুলশান-২ এলাকায় ড. ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিনের ভাড়া বাসায় তাঁর বক্তব্য নেওয়ার জন্য যাওয়া হয়। বাসার দারোয়ান প্রথমে জানান, তিনি বাসায় নেই।

পরে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কুমিল্লায় অবস্থান করছেন বলে জানান বলে অনুসন্ধানী দলের দাবি। দলের ভাষ্য অনুযায়ী, কথোপকথনের কিছু সময় পর তিনি গাড়িতে করে গুলশানের বাসার সামনে আসেন। সেখানে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এখানে ভদ্রলোকেরা থাকে, আপনারা এখানে কেন এসেছেন? আর কখনোই আসবেন না, বের হয়ে যান।”

অনুসন্ধানী দলের দাবি, তাঁকে শান্তভাবে বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তিনি কথা বলতে আগ্রহ দেখাননি এবং উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য কোনো নিরপেক্ষ ব্যক্তির বক্তব্য বা ভিডিও প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি।

ভিজিটিং কার্ডে একাধিক প্রতিষ্ঠানের পদবি: সি.পি. ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ড. ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিনের ভিজিটিং কার্ডে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ রয়েছে। তালিকায় রয়েছে—

  • প্রেসিডেন্ট, আরএইচডি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন
  • প্রেসিডেন্ট, বেইলি ক্লাব লিমিটেড
  • প্রেসিডেন্ট, শান্তিনগর ইঞ্জিনিয়ার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড
  • জেনারেল সেক্রেটারি, ডক্টর সোসাইটি অব আরএইচডি (ডিএসআর)
  • জেনারেল সেক্রেটারি, কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা সমিতি ঢাকা
  • এক্সিকিউটিভ মেম্বার, ডক্টরস সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ডিএসবি)
  • এক্সিকিউটিভ মেম্বার, রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডি সেল অব আইডিইবি
  • এক্সিকিউটিভ মেম্বার, ওল্ড ভিক্টোরিয়ানস ঢাকা

তবে এসব পদে তাঁর বর্তমান দায়িত্ব, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন এবং কার্যক্রমের প্রকৃতি আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকলেই তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয় না।

ড. ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সম্পত্তিসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে জমির দলিল, খতিয়ান, নামজারি, নিবন্ধন ও প্রযোজ্য অন্যান্য সরকারি নথি যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য এবং অভিযোগকারীর দেওয়া তথ্যের নিরপেক্ষ তুলনাও প্রয়োজন।

এ প্রতিবেদনের জন্য ড. ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিনের লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য বা অভিযোগগুলোর পক্ষে-বিপক্ষে প্রাসঙ্গিক নথি পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

—অনুসন্ধান চলমান