দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে প্রয়োজনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করতে পিছপা হবেন না বলে জানিয়েছেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। বিবিসি-র সাংবাদিক লরা কুয়েন্সবার্গের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বার্নহাম জানান, ট্রাম্পের সাথে তার প্রথম যোগাযোগ বেশ ভালো হয়েছে এবং তিনি তাকে বেশ উষ্ণ মনের মানুষ হিসেবে পেয়েছেন।
তবে ট্রাম্পকে তিনি পুরোপুরি বিশ্বাস করেন কি না—এমন প্রশ্ন দুবার করা হলেও তিনি সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। এর পরিবর্তে তিনি মন্তব্য করেন যে পৃথিবী এখন পরিবর্তনশীল এবং পরিস্থিতির সাপেক্ষেই কেবল সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।
আগামীকাল সোমবার (২৭ জুলাই) সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ব্রিটেনের স্বার্থের অনুকূলে না গেলে তিনি ট্রাম্পের সাথে দ্বিমত পোষণ করতে এবং ভিন্ন মত প্রকাশ করতে দ্বিধা করবেন না।
সাক্ষাৎকারে বার্নহাম আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখাই তার প্রধান শক্তি এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপে তার নিজের উদ্বেগ ছিল বলে জানান তিনি। জাতীয় স্বার্থই যে তার কাছে সর্বাগ্রে—সে কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এই পদের মূল দায়িত্বই হলো যেকোনো মূল্যে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা।
এদিকে প্রতিরক্ষা খাতের বাজেট নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। জিডিপির ৩ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ দিতে প্রধানমন্ত্রী অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এর আগে তার চ্যান্সেলর জন হিলি ২০৩০ সালের মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে দেশ নিরাপদ থাকবে না—এমন সতর্কবার্তা দিয়ে পূর্ববর্তী সরকার থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।
তবে বার্নহামের মতে, তিনি এমন একজন চ্যান্সেলরকে নিয়োগ দিয়েছেন যিনি প্রতিরক্ষা ব্যয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। তাদের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো চলতি বছরের শেষের দিকে বাজেট উপস্থাপনের আগে প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা সঠিকভাবে অর্থায়ন নিশ্চিত করা। জিডিপির ৩ শতাংশ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি পূরণের উপায় তারা খুঁজে বের করবেন বলেও জানান তিনি।
সূত্র: বিবিসি।


