সি.পি. ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি: রিভার প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচিব, প্রধান প্রকৌশলী এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন
ক্রাইম পেট্রোল বিডির বার্তা বিভাগ থেকে গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পত্রের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক আতিকুল ইসলামের কাছে কয়েকটি বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়।
পত্রে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বরিশালে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে যোগসাজশে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন।
এ বিষয়ে ক্রাইম রিপোর্টে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, তদন্ত রিপোর্টে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এবং দুর্নীতির ডায়েরিতে ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়। এসব প্রতিবেদনের অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
ফেসবুকে প্রতিবাদ প্রকাশের প্রসঙ্গ
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আতিকুল ইসলাম ফেসবুকে একটি প্রতিবাদ প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি প্রকল্প পরিচালককে ঘিরে একটি স্বার্থান্বেষী চক্রের অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানান বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্রাইম পেট্রোল বিডির বার্তা বিভাগের দাবি, তাঁর ফেসবুকের প্রকাশ্য তথ্য পর্যালোচনায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে গঠিত ২০২৬ সালের একটি কমিটির তালিকায় ২৪ নম্বর ক্রমিকে তাঁর নাম দেখা গেছে। এ ছাড়া তাঁর পিতা ফয়জুল ইসলামের মৃত্যুতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে কোনো কমিটির তালিকায় নাম থাকা বা কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা নিজে থেকেই অনিয়ম কিংবা আইনভঙ্গের প্রমাণ নয়। এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক বিধিবিধান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা এবং সরকারি অনুমোদনের বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন।
সরকারি কর্মকর্তার সংগঠনে যুক্ত থাকার বিধি নিয়ে প্রশ্ন
সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক কার্যক্রম, বেসরকারি সংগঠনে সম্পৃক্ততা এবং আর্থিক বা নির্বাহী দায়িত্ব পালনের বিষয়ে প্রযোজ্য আচরণবিধি রয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের কমিটিতে নাম থাকা সংশ্লিষ্ট বিধি লঙ্ঘন করেছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য কমিটির প্রকৃতি, পদটির দায়িত্ব, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভূমিকা এবং প্রযোজ্য বিধানের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
এ কারণে আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের ক্ষেত্রে তাঁর সংশ্লিষ্টতা ও সরকারি অনুমোদনের বিষয়টি নথিপত্রের ভিত্তিতে যাচাই করা জরুরি।
বক্তব্য জানতে চেয়েছে ক্রাইম পেট্রোল বিডি
ক্রাইম পেট্রোল বিডির বার্তা বিভাগ থেকে পাঠানো পত্রে আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগ এবং তাঁর ফেসবুক প্রতিবাদের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁর লিখিত জবাব বা বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথি, অভিযোগের ভিত্তি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা প্রয়োজন।
এখন দেখার বিষয়, কী ব্যবস্থা নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ
সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তবে অভিযোগ দায়ের হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়।
আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে কি না, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং কোনো প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সি.পি. ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি সংশ্লিষ্ট নথি, অভিযোগের জবাব এবং কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সংগ্রহের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রাখবে।
(পর্ব–২)
—অনুসন্ধান চলমান


