৬৩ বছর বয়সেও কর্মরত কেয়ার গিভার, স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের প্রশ্ন

প্রতিবন্ধী শিশু নিবাসে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক: জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠান ‘প্রতিবন্ধী শিশু নিবাসে’ সরকারি আউটসোর্সিং নীতিমালা অনুসরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ৬৩ বছর বয়সী রওশন আরা নামের এক কেয়ার গিভার কর্মরত রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে পরিবারের আট সদস্যকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ পাইয়ে দেওয়া, প্রভাব বিস্তার এবং অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

বয়সসীমা ও নীতিমালা অনুসরণ নিয়ে প্রশ্ন: অভিযোগ অনুযায়ী, রওশন আরার বয়স বর্তমানে ৬৩ বছর হলেও তিনি প্রতিবন্ধী শিশু নিবাসে কেয়ার গিভার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখিত সরকারি আউটসোর্সিং নীতিমালা–২০২৫ অনুযায়ী তাঁর কর্মরত থাকার বিষয়টি নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নীতিমালার নির্দিষ্ট ধারা, কার্যকারিতার তারিখ, চুক্তির শর্ত এবং কর্মরত ব্যক্তির নিয়োগের ধরন যাচাই করা জরুরি। এসব তথ্য পর্যালোচনা ছাড়া নীতিমালা লঙ্ঘনের বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

একই পরিবারের আট সদস্যের চাকরি: নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ: রওশন আরা দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকার সুবাদে প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার করে নিজের পরিবারের আট সদস্যকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ পাইয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সাবেক সমাজকল্যাণ উপদেষ্টার গাড়িচালক শেখ হাবিবুর রহমানের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন ও প্রভাব খাটিয়ে এসব নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে।

তবে অভিযোগের পক্ষে নিয়োগসংক্রান্ত নথি, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়ে থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত।

সুদের ব্যবসা ও সহযোগিতার অভিযোগ: রওশন আরার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সুদের ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও তুলেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারী। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিবন্ধী শিশু নিবাসে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত তাঁর পুত্রবধূ মোসা. সুবর্ণা আক্তার কথিত অনিয়ম, নিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রম ও সুদের ব্যবসায় সহযোগিতা করেন।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে প্রাসঙ্গিক নথি, সাক্ষ্য ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

সুশাসন ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন: একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, কর্মীদের বয়সসংক্রান্ত শর্তের যথাযথ প্রয়োগ এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবন্ধী শিশুদের সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানে এসব বিষয়ে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও জনআস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এ অবস্থায় জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে: রওশন আরার নিয়োগ ও বর্তমান কর্মরত থাকার ক্ষেত্রে কোন নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে? একই পরিবারের আট সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া কি নিয়ম মেনে সম্পন্ন হয়েছে? আর্থিক অনিয়ম ও সুদের ব্যবসার অভিযোগের বিষয়ে কোনো তদন্ত হয়েছে কি না?

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ, রওশন আরা ও মোসা. সুবর্ণা আক্তারের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

—অনুসন্ধান চলমান