সিপি ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি: ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানাধীন ফরিদাবাদ মৌজার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝেরচর নিয়ে উঠেছে দখল ও অবৈধভাবে চাষাবাদের জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর হোসেন মৌলভী নামে এক ব্যক্তি লোকজন নিয়ে চরটি দখলে নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায় করে তরমুজ চাষের জন্য চরটি ভাগ করে দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হোসেন মৌলভী, পিতা—সাদেক, গ্রাম—আহম্মদপুর, চরফ্যাশন, নিজেকে ওই চর বন্দোবস্ত নেওয়া ব্যক্তি হিসেবে দাবি করছেন। এ বিষয়ে তাঁর নামে একটি বন্দোবস্ত-সংক্রান্ত কাগজও পাওয়া গেছে। কাগজটিতে জেলা—ভোলা, উপজেলা—চরফ্যাশন, মৌজা—ফরিদাবাদ, জে.এল. নং-৭৭, তৌজি নং-৩৪, খতিয়ান নং-১৫১৪, দলিল নং-৩৪০৬ এবং তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০০৬ উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া সার্ভেয়ারের নাম হিসেবে ‘ছাইদুর রহমান’ এবং তারিখ ১১ নভেম্বর ২০১৫, উপজেলা ভূমি অফিস, চরফ্যাশন, ভোলা—এমন তথ্যও কাগজটিতে উল্লেখ রয়েছে।
তবে ওই বন্দোবস্তের কাগজের সত্যতা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি যাচাই করতে ক্রাইম পেট্রোল বিডির বার্তা বিভাগের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে অনুসন্ধান শুরু করা হয়।
প্রথমে উপকূলীয় বন বিভাগ, ভোলাকে এ বিষয়ে পত্র দেওয়া হয়। পরে নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর, ভোলা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো), চরফ্যাশন, ভোলাকেও চরের বিষয়ে তথ্য জানতে পত্র দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাঝেরচর তাদের অধীনস্থ নয়।
এরপর বিষয়টি অবহিত করা হয় বিভাগীয় কমিশনার, বরিশাল; জেলা প্রশাসক, ভোলা; সহকারী কমিশনার (ভূমি), চরফ্যাশন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার, চরফ্যাশনকে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি), চরফ্যাশন গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে স্মারক নং-৮৯৮-এর মাধ্যমে ক্রাইম পেট্রোল বিডির বার্তা বিভাগকে লিখিতভাবে জানান, হোসেন মৌলভী নামের কোনো ব্যক্তির নিকট বন্দোবস্ত প্রদানের তথ্য পাওয়া যায়নি।
ওই চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও উপজেলা ভূমি অফিস, চরফ্যাশনে তল্লাশি করে ৯ নম্বর চর্চা ম্যাপ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রদান করা সম্ভব হয়নি এবং তল্লাশি চলমান রয়েছে। তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রেরণ করা হবে।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও উপজেলা ভূমি অফিস, চরফ্যাশনে অনুসন্ধান করে ‘তাইজুর রহমান’ নামের কোনো সার্ভেয়ার কর্মরত ছিলেন—এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি বলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ক্রাইম পেট্রোল বিডির অনুসন্ধানে স্থানীয়দের কাছ থেকে দাবি পাওয়া গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের সময়ে ২০২২ সালে সরকারি অর্থায়নে নদীতে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে খনন করে বালু ভরাটের মাধ্যমে মাঝেরচরটি তৈরি করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর হোসেন মৌলভী লোকজন নিয়ে ওই চরে থাকা বিভিন্ন বনজ ও ফলজ গাছ কেটে ফেলেন। পরে তরমুজ চাষের জন্য চরটি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ কাজে স্থানীয়দের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
তবে মাঝেরচর কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, এর প্রকৃত মালিকানা বা সরকারি ভূমি হিসেবে এর অবস্থান কী, হোসেন মৌলভীর নামে দেখানো বন্দোবস্তের কাগজটি কতটা বৈধ এবং চরে গাছ কাটার ও অর্থ আদায়ের অভিযোগের সত্যতা কতটুকু—এসব প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর পেতে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান ও সরকারি নথিপত্র যাচাই প্রয়োজন।
মাঝেরচর নিয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, নথিপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়ে বিস্তারিত থাকছে ক্রাইম পেট্রোল বিডির পরবর্তী সংখ্যায়।


