১০ পর্বের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব

ম্যাট্রিমনি ব্যবসার আড়ালে প্রতারণার অভিযোগ

সি.পি. ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি: রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে ‘ম্যাট্রিমনি বাংলাদেশ ডটকম’ নামে একটি ম্যারেজ মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ গ্রহণের পরও কাঙ্ক্ষিত সেবা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে শাহীন নামের এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারীরা। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও গুগলে প্রচারণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পাত্র-পাত্রী খুঁজে দেওয়ার সেবা পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী ক্রাইম পেট্রোল বিডিকে জানান, তাঁরা দুই বন্ধু বিয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রত্যেকে ৩৫ হাজার টাকা করে মোট ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও প্রতিষ্ঠানটি তাঁদের বিয়ের ব্যবস্থা করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ম্যাট্রিমনি বাংলাদেশ ডটকমের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইন প্রচারণায় দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি আমেরিকা, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের নাগরিক এবং প্রবাসী পাত্র-পাত্রীর সন্ধান দেওয়ার কথা প্রচার করছে। ক্রাইম পেট্রোল বিডির অনুসন্ধানকারী দলের কাছে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, প্রবাসী পাত্র-পাত্রীর পরিচয় ও বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হচ্ছে। এমনকি লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ যাচাই প্রয়োজন।

প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক প্রচারণায় নিজেদের সেবার সক্ষমতা তুলে ধরে ‘সর্বাধিক বিয়ের রেকর্ড ৬০ হাজার প্লাস’, ‘১০০ প্লাস প্রফেশন’, ‘সিটিজেন পাত্র-পাত্রী’, ‘সকল ধর্মের বায়োডাটা’, ‘ডিভোর্স পাত্র-পাত্রী’ এবং ‘১০ প্লাস বছরের অভিজ্ঞতা’—এমন বিভিন্ন দাবি প্রচার করা হয়েছে। এসব প্রচারণার দাবির বাস্তবতা, বিয়ের রেকর্ডের প্রমাণ এবং সেবার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে গত ২৬/১০/২০২৬ ইং তারিখে ক্রাইম পেট্রোল বিডির বার্তা বিভাগ থেকে ম্যাট্রিমনি বাংলাদেশ ডটকম বরাবর পত্র পাঠানো হয়। ওই পত্রে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ৮(ক) ধারা উল্লেখ করে ৫০ টাকার পোস্টাল অর্ডারের মাধ্যমে তথ্য চাওয়া হয়েছিল। তবে বার্তা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো লিখিত জবাব দেওয়া হয়নি।

পরবর্তীতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ধমকের সুরে বলা হয়, “আপনারা যা পারেন তা করেন। আমরা ১৫ বছর যাবৎ এই ধরনের ব্যবসা করে আসছি। আমরা পুলিশ-সাংবাদিকদের টাকা দেই। আপনারা কোন জায়গার সাংবাদিক? অফিসে আসেন, চা খেয়ে যান।” ফোনালাপে এমন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে ক্রাইম পেট্রোল বিডির বার্তা বিভাগ জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের বিপরীতে কী ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে? প্রচারণায় উল্লেখ করা ৬০ হাজারের বেশি বিয়ের রেকর্ডের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে? প্রবাসী পাত্র-পাত্রী পরিচয়ের তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য? গ্রাহকরা প্রতিশ্রুত সেবা না পেলে অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা কী? আর অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি কোথায়?

ক্রাইম পেট্রোল বিডির বার্তা বিভাগের প্রশ্ন—বিয়ের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে কেন্দ্র করে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ গ্রহণ ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ উঠলে তার যথাযথ তদন্ত হবে না কেন? অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না কেন?

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

১০ পর্বের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব।
অনুসন্ধান চলমান…