গাজীপুর জেলা সংবাদদাতা: গাজীপুর বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মসংস্থানের সন্ধানে বিপুলসংখ্যক মানুষ এ অঞ্চলে বসবাস করেন। প্রতি মাসে বিভিন্ন শিল্পকারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ও মজুরি পাওয়ার সময়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিভিন্ন এলাকায় মেলা ও বাজার বসে। অভিযোগ রয়েছে, এসব আয়োজনের আড়ালে কোথাও কোথাও মাদক ব্যবসা ও অবৈধ জুয়া কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে এমন একটি আয়োজনের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রশাসনকে অবহিত করার পর এক সাংবাদিকের ওপর হামলা, মারধর, সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জাম ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মেলা ঘিরে মাদক ও জুয়ার অভিযোগ: স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের একটি এলাকায় মেলাকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসা ও অবৈধ জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আলহাজ্ব হারুন হাজির বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. হাসান মনোহারি দোকানের আড়ালে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে পূর্বেও কারাভোগের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
অন্যদিকে টেলিভিশন, ফ্রিজসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী পুরস্কার দেওয়ার কথা বলে টিকিট বা টোকেন বিক্রির মাধ্যমে লটারির আয়োজন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব আয়োজনকে মেলা, হাট-বাজার, র্যাফেল ড্র কিংবা ভাগ্য পরীক্ষার মতো বিভিন্ন নামে প্রচার করা হলেও অংশগ্রহণকারীদের অর্থের বিনিময়ে পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভাগ্যনির্ভর।
অভিযোগকারীদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সামান্য কিছু পুরস্কার দেওয়ার মাধ্যমে আয়োজকরা বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেন।
প্রশাসনকে তথ্য দেওয়ার পর হামলার অভিযোগ: স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের কাছ থেকে এসব বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
তার অভিযোগ, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আব্দুর রহমান নামের এক ব্যক্তি তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকের হোমিওপ্যাথিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অনধিকার প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করেন।
ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, হামলার সময় সংবাদ সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত তার স্মার্টফোন নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। একই সময় জাতীয় সাপ্তাহিক ক্রাইম পেট্রোল বিডি পত্রিকা অফিস থেকে দেওয়া একটি সনি হ্যান্ডিক্যাম ক্যামেরা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ: হামলার পর তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এক দিনের মধ্যে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ওই সাংবাদিক।
হামলার পর প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তিনি গাজীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরবর্তীতে নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কালিয়াকৈর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডি নম্বর ৩০৪।
সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন: সংবাদ সংগ্রহের সময় কোনো সাংবাদিকের ওপর হামলা, সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জাম ভাঙচুর কিংবা প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠলে বিষয়টি সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে মাদক ব্যবসা, অবৈধ জুয়া কার্যক্রম, সাংবাদিকের ওপর হামলা এবং ক্যামেরা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা, অভিযোগের সত্যতা এবং হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে সি.পি. ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
—অনুসন্ধান চলমান


