সি.পি. ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি: রাজধানীর উত্তরার ফায়দাবাদ মৌজায় ৫ কাঠা জমির ওপর ১০ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ৫ কাঠা জমির মধ্যেই রয়েছে প্রায় সোয়া ১ কাঠা সরকারি খাসজমি। এ অবস্থায় খাসজমি অন্তর্ভুক্ত থাকা অবস্থায় কীভাবে পুরো জমির ওপর ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফায়দাবাদ প্রাইমারি স্কুলের পশ্চিম পাশে অবস্থিত ওই জমির মালিকানা ২৭ জন ব্যক্তির নামে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট জমির এসএ দাগ নং-২১৩ এবং আরএস দাগ নং-৬০০। জমিটির ওপর ১০ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে ডা. কামাল জানিয়েছেন।
তবে স্থানীয়দের দাবি, ৫ কাঠা জমির ভেতরেই সরকারি প্রায় সোয়া ১ কাঠা খাসজমি রয়েছে। ফলে জমিটির প্রকৃত মালিকানা, দাগ-খতিয়ান এবং রেকর্ডপত্র যাচাই না করে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে সরকারি সম্পত্তি বেদখলের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
ভূমি উন্নয়ন করের রশিদের তালিকায় ১৮ জনের নাম
ক্রাইম পেট্রোল বিডির কাছে ওই জমির ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রশিদের একটি তালিকা এসেছে। তালিকায় নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ রয়েছে—
১. অহিদুজ্জামান
২. মোহাম্মদ আলী ভূঁঞা
৩. আব্দুল মতিন
৪. মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান ভূঁঞা
৫. মোহাম্মদ শামসুল আরেফিন
৬. ইব্রাহিম মিয়া
৭. মিতা ইয়াসমিন
৮. নাজনীন সুলতানা মিতু
৯. কামাল উদ্দিন
১০. মাহমুদ হাসান মাহিন
১১. আব্দুল মোতালেব
১২. নাজমা আকতার
১৩. আয়েশা আক্তার
১৪. জাকির হোসেন
১৫. শহিদুল ইসলাম
১৬. মোহাম্মদ আবু বকর
১৭. মো. নজরুল ইসলাম
১৮. এ.কে.এম. রুহুল আমিন সিকদার
তালিকায় ১৮ জনের নাম থাকলেও স্থানীয়ভাবে জমিটির সঙ্গে ২৭ জন ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কথা বলা হচ্ছে। ফলে বাকি ব্যক্তিদের পরিচয়, মালিকানার ধরন এবং জমির অংশীদারিত্ব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
প্রকৃত মালিকানা নিয়ে অনুসন্ধান প্রয়োজন
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি খাসজমি যদি ওই ৫ কাঠার অংশ হয়ে থাকে, তাহলে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির সঙ্গে সরকারি জমি কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হলো—এ বিষয়টি ভূমি রেকর্ড, খতিয়ান, দাগ, নামজারি ও সরেজমিন পরিমাপের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
এছাড়া ১০ তলা ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, অনুমোদিত নকশায় জমির পুরো অংশ কীভাবে দেখানো হয়েছে এবং সেখানে কোনো সরকারি খাসজমি অন্তর্ভুক্ত আছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
ক্রাইম পেট্রোল বিডির অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। জমির খতিয়ান, দাগ, নামজারি, মালিকানা এবং ভবন নির্মাণের অনুমোদন-সংক্রান্ত আরও তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
অনুসন্ধান চলমান…


